ওসমান গনি, বেড়া (পাবনা)
৬০ বছর ধরে মহিষের খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন আনছার আলি শেখ। আনছার আলি শেখ পাবনার বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়নের নতুন পেচাকোলা গ্রামের মৃত মহাব আলি শেখের বড় ছেলে। এলাকায় একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকায় লোকে তাকে মহিষ আনছার নামে চেনে-জানে। তিনি বাবার আমল থেকে কৃষি কাজের পাশাপাশি মহিষের খামার বা মহিষ লালল পালন করে বাচ্চা মহিষ বড় করে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তিনি বলেন তার বয়স যখন ৭-৮ বছর ঠিক তখন থেকেই তার বাবা মৃত মহাব আলি শেখের সাথে মহিষের লালন পালন করতেন। তার বাবা মহিষের খামার করে এবং লালন পালন করে সংসার চালানো সহ তাদেরকে মানুষ করেছেন। ওই সময় এখনকার মতো আধুনিক গাড়ি না থাকায় মহিষের গাড়ির অনেক চাহিদা ছিলো। যার ফলে তিনি মহিষের গাড়ি ব্যবহার করে যে টাকা আয় করতেন তা দিয়ে সংসার চালিয়েও বসবাসের জন্য বাড়ি ও কিছু জমি ক্রয় করেছিলেন। ৪০ বছর আগে তার বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি বাবার পেশা আকড়ে ধরে মহিষের খামার করে দেখভাল শুরু করে দেন।তিনি বলেন প্রায় প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে পতিত জমিতে জন্মানো দুবরা ঘাস মহিষগুলোকে ছেড়ে দিয়ে নিজে সাথে থেকে খাওয়ায়।দুপুরের পর থেকে বাড়িতে মহিষগুলো গুড়ায় বেধে রেখে কাচা ঘাসসহ শুকনা খাবার দেন।বাড়িতে মহিষগুলোর সেবায় অধিকাংশ সময় দেখভাল করে থাকেন তার স্ত্রী। তিনি আরও বলেন বছর তিনেক আগে বিগত সরকারের আমলে বেড়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে অনুষ্ঠিত প্রাণি সম্পদ প্রদর্শনীতে উপজেলার মধ্যে সেরা মহিষের খামারি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় নগদ ৫ হাজার টাকা পুরস্কার পেয়েছেন বলে তিনি জানান।বর্তমানে তার নগদ অর্থ না থাকায় তার বহুদিনের লালিত বড় খামার করার ইচ্ছে পুরন হয়নি। বড় একটি খামার করতে কমপক্ষে ৫-১০ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। যদি সরকারি বা বে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়, তাহলে তার বড় খামার করার লালিত স্বপ্ন পুরন হতো। বর্তমান তার বয়স প্রায় ৭০ বছর। তার তিন মেয়ে এবং দুই ছেলে মিলে ৭ সদস্যের পরিবার। ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে সংসার চালিয়ে নদী ভাংগনে পুরাতন বাড়ি বিলীন হওয়ার পর হাটুরিয়া মৌজায় নতুন পেচাকোলা নামক গ্রামে পুনরায় বসত বাড়ি করাসহ কিছু জমি ক্রয় করেছেন। সেগুলো সহ আরও কিছু জমি বছর চুক্তি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেন। এগুলো করে তিনি নিজ বাড়িতে তিনটি আধাপাকা ঘর দিয়ে স্বচ্ছলতার সাথে জীবন যাপন করছেন। মহিষের খামার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, বর্তমানে মহিষ চড়ানোর জন্য খোলামেলা জায়গার অভাব এবং গো-খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মহিষ পালা প্রায় অসম্ভব হয়ে পরেছে। তাছাড়া আধুনিককালে রাস্তাঘাট এবং পরিবহনের জন্য আধুনিক গাড়ি ব্যবহার হওয়ায় আগেরমতো মহিষের আর তেমন চাহিদা নেই। এরপরেও বাপ দাদার পেশা হিসেবে তিনি এ পেশা ধরে আছেন বলে জানান। তিনি বলেন একটি মহিষের বাচ্চা গড়ে ৪০-৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে আড়াই থেকে তিন বছর লালন পালনের পর আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। তার খামারে এখন চারটি মহিষ আছে বলে তিনি জানান।
