ওসমান গনি বেড়া (পাবনা)
একের পর এক হাতুড়ির আঘাতে টুংটাং শব্দ, আগুনে পুড়ে লাল হয়ে ওঠা লোহা ধীরে ধীরে নিচ্ছে নতুন আকার। এই ছন্দময় শব্দই জানান দিচ্ছে – কোরবানি ঈদ সামনে।
আর এই ঈদকে কেন্দ্র করে ঠুনঠান আওয়াজে মুখরিত পাবনার বেড়া উপজেলার বিভিন্ন কারারশালা। মুসলমানেরা প্রতি বছর আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য, ঈদুল আজহায় গবাদি-পশু কোরবানি করে থাকেন। কোরবানির মাংস কাটার জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন রকমের দরকারি উপকরণ সামগ্রী দা, বটি, ছুরি, চাপাতি সহ ইত্যাদি।
আর মাত্র অল্প কিছুদিন বাকী আছে ঈদের। তাই ক্রেতাদের কাছে থেকে কোরবানি মাংস কাটার উপকরণ সামগ্রীর অর্ডার নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ উপজেলার আনাচে-কানাচে থাকা কামাররা। একদিকে হাপরের অগ্নি শিখা অন্যদিকে হাতুরির টুংটাং শব্দে তৈরী হচ্ছে গবাধি-পশু জবাই এবং মাংস প্রস্তুত করার সরঞ্জাম। আসন্ন ঈদকে ঘিরে স্থানীয় কামারের পাশাপাশি বিভিন্ন হাট-বাজারে চোখে পড়ছে অস্থায়ী এবং ভ্রাম্যমাণ কামারের দোকান। উপজেলার নাকালিয় বাজারের শিপন কামার জানান, কোরবানি ঈদে পশু কাটার বিভিন্ন সরঞ্জামের অর্ডার নেওয়া পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর লোহা এবং কয়লার দাম বেড়ে যাওয়া এসব পণ্যের দামও একটু বেড়েছে, তাই ক্রেতারা পণ্য ক্রয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করছেন। আরেক কারিগর খোকন কর্মকার জানান, এখন আমাদের তৈরী পশু জবাই করা উপকরণ বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের দোকানে এবং ভ্রাম্যমাণ ভ্যান গাড়িতে কিনতে পাওয়া যায়, তাই আগের তৈরিকৃত পণ্য নেওয়ার ক্রেতা আসে না। বছরের এগারো মাস ঠিকমতো কাজ থাকে না থাকলেও , ঈদকে ঘিরে কাজের চাপ বেড়ে যায় তবে অতিরিক্ত শ্রমিক বেশি টাকা বেতনে কাজে লাগাতে হয়। এ জন্য বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময় লোহা ও সরঞ্জামের দাম একটু বেশি থাকে। মোহনগঞ্জ এলাকার সুভাস কামারের দোকানে ছুরি অর্ডার দিতে আসা রমজান ও বিল্লাল বলেন, গত ঈদেও এখান থেকে ছুরি আর চাপাতি কিনেছিলাম। কিন্তু একদিন ব্যবহারের পর সেগুলো কোথায় আছে খুঁজে পাই না, যদিও একটি ঘরে পেয়েছি তাও আবার মাটিতে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এ বছর আবারও অর্ডার দিতে এসেছি চারপাঁচদিন পর এসে নিয়ে যাব।তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম একটু বেশি।সরেজমিনে বিভিন্ন কর্মকারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বড় ছুরি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪ শ’ টাকা চাপাতি ৯ শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। এবং ছোট ছুরি, দা, বটি ইত্যাদি ৫শ’ টাকা কেজি দরে তারা বিক্রি করছেন।
