পাবনা প্রতিনিধি-: পাবনা ৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেছেন, মায়ের মত করে রোগীদের সেবা যতœ করে সুস্থ করে তুলুন। ১২ মে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোববার দুপুর ১ টায় শালগাড়িয়া পাবনা নার্সিং কলেজের হল রুমে এক অনুষ্ঠান প্রধান অতিথির ভাষণে পাবনা ৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এ কথা বলেন।
আলোচনার আগে প্রধান অতিথি এমপি শিমুল বিশ্বাসকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন শিক্ষার্থীরা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ জীবন নেসা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, নার্সরা যাদের সেবা করেন তাদের সঙ্গে কোনো রক্তের সম্পর্ক থাকে না। তারপরও পরম মমতা ও মানবিকতা দিয়ে তারা অসহায়, বিপন্ন ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের জীবন বাঁচাতে নিরলসভাবে কাজ করে যান। এজন্যই নার্সিং একটি মহৎ পেশা, আর নার্সরা মায়ের প্রতিচ্ছবি।
তিনি বলেন, এই মহান পেশার মানুষদের নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশই ১৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। অন্যদিকে জাপান ও ইউরোপের অনেক দেশে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষের সংখ্যা বেশি এবং কর্মক্ষম মানুষের সংকট রয়েছে। ফলে এসব দেশে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এখন বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। আপনারা যদি সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা আয়ত্ত্ব করতে পারেন, তাহলে সেখানে দেশের সরকারি চাকরির তুলনায় ১০ গুণ বেশি বেতন পাওয়া সম্ভব। একজন নার্স সর্বনিম্ন প্রায় ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন পেতে পারেন। জাপানে বর্তমানে দুই লাখ গাড়িচালক নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, পাশাপাশি নার্সদেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
এমপি শিমুল বিশ্বাস বলেন, আপনাদের সব সমস্যার কতটুকু সমাধান করতে পারবো জানি না, তবে আমি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবো। স্বাস্থ্য মন্ত্রীর বরাবর একটি লিখিত আবেদন দিন। আমি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকায় যাচ্ছি এবং নিজ হাতে সেটি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবো।
তিনি জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালের উন্নয়নমূলক কাজে সাড়ে ১৩শ কোটি টাকার বরাদ্দ হয়েছে। এ ছাড়া পাবনা সদর হাসপাতাল বর্তমানে আড়াইশ’ শয্যার হলেও সেখানে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ থেকে ছয়শ’ রোগী ভর্তি হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। তিনি সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন। একইসঙ্গে পাবনা মেডিকেল কলেজের জন্য আলাদা হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পাবনার স্বাস্থ্যখাতকে আরও নিরাপদ ও উন্নত করতে মানসিক হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য দক্ষ জনবল প্রয়োজন হবে, আর সেই জনবল গড়ে তুলবে পাবনা নার্সিং কলেজ। তাই শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে, যে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। জনগণের কল্যাণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাবনা নার্সিং কলেজের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন।
শেষে তিনি কলেজের অধ্যক্ষ জীবন নেসাকে একটি আবেদনপত্র প্রস্তুত করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পাবনা নার্সিং কলেজ, পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পাবনা সদর হাসপাতাল ও পাবনা মানসিক হাসপাতালের প্রয়োজনীয় দাবিগুলো একসঙ্গেই স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন। এর আগে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও কলেজের অধ্যক্ষ জীবন নেসা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পাবনা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. জাহেদী হাসান রুমী।
কলেজের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর আশীষ কুমার সাহা’র সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন কলেজ ছাত্র দলের সভাপতি ডা. সাগর মাহমুদ, বিএসসি কোর্সের শিক্ষার্থী শিরিনা আক্তার ও আলামিন হোসেন ঈমন।
বক্তারা কলেজের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। বিশেষ করে বাবুর্চি সংকট, হাউসকিপার ও ড্রাইভারের অভাব, গ্যাস সংযোগ সমস্যা, ডাইনিংয়ে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা, আবাসন ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. জাহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক এনামুল হক এনাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আরিফ চৌধুরী, নার্স, ব্রাদার, ইন্সট্রাক্টর ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা।
উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রথমে ছিল “পাবনা নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার”। পরে এটি ইন্সটিটিউটে এবং বর্তমানে কলেজে রূপান্তরিত হয়ে “পাবনা নার্সিং কলেজ, পাবনা” নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে কলেজটিতে ডিপ্লোমার দুটি ও বিএসসির একটি মিলিয়ে মোট তিনটি কোর্স চালু রয়েছে। প্রতি বছর এ কলেজ থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে বের হচ্ছে।
