মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১০নং নজিরাবাদ ইউনিয়নের কমলাকলস গ্রামে অন্যের মালিকানাধীন জমিতে হামলা, ভাঙচুর, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা রিপন বকস ও তার চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে রিপন
বকস (৪৫), স্বপন বকস (৪০), লিটন বকস (৩৭), মুহিব বকস (৪০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, রিপন বকস- বিগত ২০২২ সালে দায়েরকৃত একটি আলোচিত হত্যা
মামলার (জিআর-২৯/২২) প্রধান আসামি। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলারও (মামলা নং-৩৪/৩২৪) এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে আসছেন তারা। স্থানীয়দের
দাবি, জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা মামলা দায়ের ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত জমির মালিকদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রিপন বকস ও তার সহযোগীরা। সম্প্রতি হাইল হাওর এলাকায় মরহুম লুৎফুর রহমানের পরিবারের মালিকানাধীন জমিতে
হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, রিপন বকস ও তার ভাইয়েরা ওই জমিতে থাকা একটি ঘর ভেঙে ফেলে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালান। অথচ ওই জমি নিয়ে চলমান বিরোধে আদালত পূর্বেই নিষেধাজ্ঞা (মামলা নং-১৩৩/২০২৫) জারি করেছিলেন। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের ওই জমিতে প্রবেশ
এবং কোনো ধরনের ঝামেলা সৃষ্টি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়,মরহুম লুৎফুর রহমানের পরিবারের পক্ষে সংশ্লিষ্ট নালিশী ভূমির মালিকানা, দখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক মামলা দায়ের ও পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতের
রায় ও ডিক্রির মাধ্যমে উক্ত ভূমির বৈধ মালিকানা মরহুম লুৎফুর রহমানের পরিবারের পক্ষে নিশ্চিত হয়। এছাড়াও
মৌলভীবাজার সদর আদালত কর্তৃক নালিশী ভূমি বিষয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং পরবর্তীতে
ভূমির শান্তিপূর্ণ দখল ও স্বত্ব সংরক্ষণের লক্ষ্যে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ ও ডিক্রি প্রদান করা হয়। অস্থায়ী
নিষেধাজ্ঞা জারির পরও মরহুম লুৎফুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের
অভিযোগে পৃথক মামলাও দায়ের করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা সামাজিকভাবে
সম্মানিত ও শিক্ষিত পরিবার। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে তাদের সম্পত্তিতে হামলা চালানো
হয়েছে। পাশাপাশি মিথ্যা প্রচারণা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে তাদের সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও
অভিযোগ করেন তারা। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, রিপন বকস
ও তার ভাইয়েরা নজিরাবাদ ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে “চিহ্নিত সন্ত্রাসী” হিসেবে পরিচিত। তাদের
বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, হামলা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় মুরব্বি ও জনপ্রতিনিধিদের কথাও তারা তোয়াক্কা করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
