আমিও গুমের শিকার, সংশ্লিষ্ট আইনগুলো আরও পরিমার্জিত করতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজের গুমের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে গুম কমিশনকে কার্যকর ও সমন্বিত করার ওপর জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, আমি নিজে গুমের শিকার হয়েছি। আলোচনার মাধ্যমে গুম কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট আইনগুলো পরিমার্জন করে ভুক্তভোগীদের জন্য সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা চাই যে এই গুম কমিশনটি এমনভাবে গঠন করা হোক, যাতে এর কার্যকারিতা (ফাংশন) ঠিক থাকে। আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট আইনগুলো আরও সমন্বিত ও পরিমার্জিত করতে চাই, যাতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।’

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘হাউসের অনুমতি নিয়ে এবং আইনমন্ত্রী যথাযথভাবে ফ্লোরে বলেছেন যে, আমরা চাইলে পরবর্তী অধিবেশনে এটি সংশোধিত আকারে আবারও বিল আকারে আনতে পারি। এর আগে আমরা আলোচনা করব, আপনাদের বক্তব্য শুনব। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—এ বিষয়ে সবাই মিলে আলোচনা করে একটি নতুন বিল আবারও আনা যেতে পারে। এটি একটি উত্তম প্রস্তাব। কিন্তু তারা এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা না করে এবং নির্বাচনী কিছু ইস্যু ও অন্যান্য অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য তুলে ধরে কয়েকবার ওয়াকআউট করেছেন। আমার মনে হয়, এটি যৌক্তিক ছিল না।’

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘কিছু অধ্যাদেশ সম্পর্কে তাদের কিছু বক্তব্য ছিল। আমরা বলেছি, এগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করব। যেমন—গুম কমিশন অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং বিচারক নিয়োগ আইনসহ এসব বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করা হবে। আলোচনা করে এগুলো আরও সমৃদ্ধ করে পরবর্তী অধিবেশনে আনা হবে। সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করেই এগুলো করা হবে। কারণ আইনগুলো যদি বর্তমান অবস্থাতেই পাশ করা হয়, তাহলে তা যথাযথভাবে পরিপূর্ণ হবে না।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আইসিটি কোর্টের প্রসিকিউশন টিম এবং তদন্ত সংস্থার অত্যন্ত উচ্চমানের ও লজিস্টিক সাপোর্ট বেশি। যদি মানবাধিকার কমিশন বা গুম কমিশনের মাধ্যমে একাধিক তদন্ত সংস্থা তৈরি হয়, তাহলে তদন্তে দ্বৈততা (মাল্টিপল ইনভেস্টিগেশন) সৃষ্টি হতে পারে। এতে ভিন্ন ভিন্ন রিপোর্ট আসবে, আসামিরা সুবিধা পাবে এবং সময়ক্ষেপণ হবে। আমরা এসব বিষয় মাথায় রেখেই কাজ করছি।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু অধ্যাদেশ তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখন একটি নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার রয়েছে, তাই আমাদের কাছে সময় আছে। আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট আইনগুলো আরও সমন্বিত ও পরিমার্জিত করতে চাই, যাতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।’

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সেটাই সবার জন্য ভালো হবে। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা বিষয়গুলোকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা আমরা করতে চাই না।’