ড্রোন প্রতিরক্ষা সহায়তার বিনিময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে অর্থ ও প্রযুক্তি চায় ইউক্রেন

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ইরানি কামিকাজ ড্রোন মোকাবেলায় সহায়তা করার বিনিময়ে অর্থ ও প্রযুক্তি চায় ইউক্রেন। এ কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

রোববার (১৫ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ইউক্রেন ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। এসব দলের সদস্যরা ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং কীভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা যায় তা পর্যবেক্ষণ করবেন।

জেলেনস্কি বলেন, পাঠানো প্রতিটি দলে ডজনখানেক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। তারা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ড্রোন প্রতিরোধের কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করবেন।

ইরানের তৈরি ড্রোন হামলা মোকাবেলায় উপসাগরীয় দেশগুলো বিপুল পরিমাণ বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এ কারণে তারা এখন ড্রোন প্রতিরোধে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়।

জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন প্রতিদিন রাতে রাশিয়ার পাঠানো ছোট ও সস্তা ড্রোন ভূপাতিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এর মধ্যে জ্যামিং সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় এক ডজন দেশ ইতোমধ্যে এ ধরনের হামলা মোকাবেলায় ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে।

এর আগে জেলেনস্কি জানান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব–এ বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরেকজন কর্মকর্তা জানান, বিশেষজ্ঞরা জর্ডান–এর একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও কাজ করছেন।

ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন–এর প্রসঙ্গ টেনে জেলেনস্কি বলেন, “এটা কোনো সামরিক অভিযানে জড়িত হওয়ার বিষয় নয়। আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করছি না। এটি শুধু শাহেদ ড্রোন মোকাবেলার জন্য নেওয়া একটি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ।”

জেলেনস্কি বলেন, এই সহায়তার বিনিময়ে ইউক্রেন কী পাবে তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমানে ইউক্রেনের জন্য অর্থ ও প্রযুক্তি—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া তিনি জানান, ড্রোন সহযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–এর সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে কি না, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত নন ইউক্রেনের সরকার।
সূত্র: রয়টার্স