পাবনার নগরবাড়িতে আধুনিক নৌবন্দর উদ্বোধন

ওসমান গনি বেড়া (পাবনা)
পাবনার বেড়া উপজেলার নগরবাড়িতে আধুনিক নদীবন্দর উদ্বোধন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় তিনি উপজেলার নগরবাড়িতে নির্মিত আধুনিক নদীবন্দর উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের উপদেষ্টা বলেন, এই বন্দরের সুফল এরইমধ্যে এখানকার ব্যবসায়ীরা পেতে শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে আরও সুযোগ হলে এখানে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। সেটিও আমরা পরিকল্পনায় রেখেছি। এছাড়া আমরা চারটা ড্রেজার মেশিন পেয়েছি। নাব্য সংকট নিরসনের জন্য এর একটি এখানে দেওয়া হচ্ছে৷ সবমিলিয়ে মাঝারি আধুনিক একটি পোর্ট হিসেবে এটিকে গড়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।
বিআইডব্লিউটির চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ারা বেগম। এছাড়া অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিআইডব্লিউটির তথ্যমতে, নগরবাড়ী ঘাট নদীপথে সার, সিমেন্ট, কয়লাসহ ভারী পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০১৮ সালে এই ঘাটকে আধুনিক নৌবন্দরে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও মামলার কারণে দুই দফা মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পর এটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলো। ৩৬ একর জমির ওপর ৫৬৩ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এই বন্দরে রয়েছে ৩৬০ মিটার কংক্রিটের জেটি, টার্মিনাল, ওয়্যারহাউজ, গোডাউন, বাফার গোডাউন, ওপেন শেড ও দ্রুত পণ্য লোড-আনলোডের সুবিধা।
ক্রেন ও পাকা জেটির ব্যবহারে পণ্য খালাসের গতি বেড়েছে ১০ গুণ, যা রাজস্ব আয় ও কর্মসংস্থান বাড়াবে। পূর্বে প্রতিদিন ২ হাজার টন পণ্য খালাস হলেও এখন প্রায় ২০ হাজার টন পণ্য খালাস করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্বে এই ঘাটে একদমই সনাতনী পদ্ধতিতে মালামাল লোড আনলোড, পরিবহন ও সংরক্ষণ করা হতো। ফলে তেমন গতি ছিল না আমদানি কাজে। তবে এখন চিত্র বদলেছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিজেদের জাহাজে করে নগরবাড়ি ঘাটে সরাসরি পণ্য নিয়ে আসা যাবে এবং এখান থেকে তা সড়কপথে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সহজেই পরিবহন করা যাবে।
এর আগে আমদানি পণ্যের একটি বড় অংশ দক্ষিণের জেলাগুলোয় খালাস করা হতো। ফলে উত্তরাঞ্চলে পরিবহনে সময়ের সঙ্গে ট্রাকপ্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ গুণতে হতো। এছাড়া ঘাটে পণ্য খালাসে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এখন সেসব থাকবে না। সার রাখার জন্য বাফার গোডাউন রয়েছে। মালামাল লোড আনলোডের জন্য ক্রেনসহ আধুনিক সব সুবিধাই আছে