সর্বস্ব হারিয়ে যাত্রী ছাউনিতে ইউনূসের মানবেতর জীবনযাপন

ওসমান গনি,বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি ঃ
হায়রে জীবন ! ওরে জীবন! কী নাম হবে এই জীবনের ! স্ত্রী সন্তানের আদর যতেœর পরশ নেই তাঁর। আছে শুধু বুকভরা দীর্ঘশ্বাস জীবনের পড়ন্ত বেলায় তাঁর ঘরে বাতি জালানোর মতন কেউ নেই। একা শুধুই একা ! এক জীবনে এতটুকু সহানুভূতি কি তিনি পেতে পারেনা ? বলছি পাবনার বেড়া উপজেলার কৈটোলা ইউনিয়নের আওয়াল বাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনে মানবেতর জীবনযাপন করা ইউনূসের কথা।
যে কিনা বুকভরা হাহাকার নিয়ে মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুণছেন। জানা যায় , এক সময় তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য স্ত্রী সন্তান সবই ছিল!পরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হারিয়ে ফেলেন নিজের সক্ষমতা। এ সময় চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে বসতভিটা জায়গা-জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হওয়ায় তাঁকে ডিভোর্স দিয়ে ছেড়ে যান স্ত্রী। অন্যদিকে চার সন্তানের জনক হয়েও অসময়ে পাশে পাননি দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে কেউ তাঁর খোঁজখবর রাখেন না। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোহসীন হোসেন পিপুল বলেন , ইউনূস আলি এক সময় নতুন হাঁড়ি পাতিলের ব্যবসা করতেন স্ট্রোক করার পর প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা ব্যয়ে তিনি সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেন। তাঁর মানবেতর জীবনযাপন থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আমরা যতটুকু সম্ভব সাহায্য করব।এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বেড়া উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো.মোতালেব সরকারও।তিনি বলেন , স্ট্রোক হওয়ার কারণে প্যারালাইসিস হয়েছে , যাঁর ফলে তিনি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। ওই স্থানে পরিত্যক্ত যাত্রী ছাউনিতে তিনি থাকেন এ খবর শোনার পর আমি নিজে সেখানে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নেই। ইউনূসের মানবেতর জীবনযাপন এটা সত্যি অনেক কষ্টকর একটা বিষয়। যথাসাধ্য চেষ্টা করছি তাঁর পাশে দাঁড়ানোর জন্য। স্থানীয়রা জানান , স্ট্রোকে প্যারালাইসিস হওয়া ইউনুসের সন্তানেরা কেউ কোনো খোঁজ খবর নেন না! বিনা চিকিৎসায় অযতœ অবহেলায় যাত্রী ছাউনিতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন , একসময় তিনি বড় ব্যবসা করতেন অসুস্থতার কারণে তার পরিবার তাকে ছেড়ে চলে গেছে। তবে এলাকাবাসী সুদৃষ্টি দিলে ইউনূসের মানবেতর জীবনযাপন প্রতিরোধ হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।