খালেদ আহমেদ :
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে পাবনা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী ও জননেতা এডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের পরিকল্পিত উদ্যোগে এখন নতুন রূপ পাচ্ছে জেলার যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
তার উদ্যোগ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দিনব্যাপী পাবনায় পরিদর্শনে আসেন সরকারের সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই সফরের উদ্দেশ্য—পাবনাকে জাতীয় উন্নয়ন কাঠামোর কেন্দ্রীয় সড়ক ও রেল যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা যাচাই এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি।
ফেরিঘাট স্থানান্তরের পরিকল্পনা:পরিদর্শনের সময় বিশেষজ্ঞ দল কাজিরহাট ফেরিঘাটকে খাসচরে স্থানান্তর করার প্রস্তাব নিয়ে মাঠ পর্যায়ে আলোচনা করে। এতে ঘাটের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার কমে যাবে, ফলে পাবনা-ঢাকা রুটে যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এছাড়া নারাদহ থেকে খাসচর পর্যন্ত একটি নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যা ফেরিঘাট ব্যবহারে আরও গতি আনবে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হক বলেন,“পাবনা থেকে রাজধানী পর্যন্ত সহজ যোগাযোগ এখন সময়ের দাবি। শিমুল বিশ্বাসের আহ্বানেই আমরা এখানে এসেছি, কীভাবে সময় ও খরচ দুই-ই কমিয়ে মানুষের যাতায়াত সুবিধা বাড়ানো যায়, তা যাচাই করতে।”
ঢাকা-পাবনা রেল সংযোগের নতুন দিগন্ত:পাবনা থেকে সরাসরি ঢাকা এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর সম্ভাবনাও পরিদর্শনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম জানান,
“আমরা পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ ব্যবহার করে পাবনা থেকে সরাসরি ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নিচ্ছি। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে তিন ঘণ্টারও কম সময়ে ঢাকা পৌঁছানো সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, রেলের ইঞ্জিন ও কোচের ঘাটতি দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে ভারত থেকে নতুন ব্রডগেজ কোচ আনার প্রক্রিয়া চলছে। সেগুলো এলে মাছগ্রাম বা ঈশ্বরদী হয়ে ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
মাঠপর্যায়ে উন্নয়ন তৎপরতা:দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুরে পাবনা সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ, বিকেলে ঢালারচর রেলস্টেশন পরিদর্শন, এবং রাতে বেড়া–কাজিরহাট–নারাদহ–খাসচর লিংক রোড সংলগ্ন নদীতীরে মাঠপর্যায়ের উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। দিনশেষে সচিবদের বিদায় জানানো হয় কাজিরহাট ফেরিঘাটে।
জনসম্মুখে উন্মুক্ত এ কর্মকাণ্ডে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা প্রশাসক মো. মফিজুল ইসলাম, পাবনার পুলিশ সুপার মোর্তজা আলী খান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ।
ঐক্যের রাজনীতি ও উন্নয়ন অঙ্গীকার:উন্নয়ন পরিদর্শনের পুরো আয়োজনেই একটি বিষয় স্পষ্ট— শিমুল বিশ্বাসের রাজনীতি বিভাজনের নয়, বরং ঐক্যের। তিনি বলেন,
“উন্নয়ন মানে শুধু সড়ক বা সেতু নয়, উন্নয়ন মানে মানুষকে একসাথে এগিয়ে নেওয়া। পাবনার প্রতিটি নাগরিক আমার শক্তি। দল, মত, শ্রেণি নির্বিশেষে আমি সবাইকে সাথে নিয়েই পাবনার ভবিষ্যৎ গড়তে চাই।”
নির্বাচনি অঙ্গীকারের আগাম বাস্তবায়ন:
এই কার্যক্রমের মাধ্যমে শিমুল বিশ্বাস তাঁর ঘোষিত নির্বাচনি ইস্তেহারের দুটি বড় অঙ্গীকার পূরণের পথে হাঁটলেন— (৪) পাবনা–ঢাকা রুটে দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করতে কাজিরহাট ফেরিঘাট খায়েরচরে স্থানান্তর করা, এবং (৫) পাবনা থেকে সরাসরি এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া।
জনগণের চাহিদা ও বাস্তবতার তাগিদে তিনি অপেক্ষা না করে এখনই এই প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন। যা ভবিষ্যতে পাবনার অর্থনীতি, পর্যটন, শিল্প ও কৃষির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উন্নয়নের ধারাবাহিক ভিশন:এর আগেই তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে পাবনার জন্য ১৬ দফা উন্নয়ন প্রস্তাব তুলে ধরে লিখেছিলেন—
“জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পাবনার প্রতিটি সমস্যা ও প্রত্যাশা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করাই আমার অঙ্গীকার।”
এই সাম্প্রতিক সফর সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের এক বাস্তব সাক্ষ্য।
উপসংহার:
পাবনার উন্নয়ন এখন আর কাগজে সীমাবদ্ধ নয়— এটি মাঠে নেমে এসেছে, পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নের পথে চলছে। শিমুল বিশ্বাসের নেতৃত্বে পাবনা আজ এগিয়ে যাচ্ছে সমন্বিত উন্নয়ন, ঐক্য ও অগ্রগতির নতুন অধ্যায়ে। এটাই হয়তো সময়ের দাবি—
“রাজনীতি নয়, উন্নয়নই হোক নেতৃত্বের পরিচয়।”
