শ্রীলঙ্কার প্রাপ্তি এখন অতীত, মিরপুরে নতুন চ্যালেঞ্জ — লিটন

অনাবিল ডেক্স ;;
টি-টোয়েন্টিতে একের পর এক ব্যর্থতা, হারের গ্লানিতে ভর করেই ২০২৫ সালের শুরুটা কেটেছে বাংলাদেশের। শক্তির বিচারে পিছিয়ে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে হারের পর গেল পাকিস্তান সফরও শেষ হয়েছে হতাশায়। তবে ঘনিয়ে আসা অন্ধকারে একটু আলো ফেলে গেছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দল, সর্বশেষ সফর শ্রীলঙ্কা থেকে ফিরেছে ২-১ সিরিজ জয়ে উজ্জ্বল স্মৃতি নিয়ে। কিন্তু সেই সাফল্য নিয়ে আর বেশি ভাবতে নারাজ অধিনায়ক।

মিরপুরে আজ থেকে শুরু পাকিস্তানের বিপক্ষে আরেকটি তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সন্ধ্যা ৬টায় সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। আর ম্যাচের আগে লিটন জানিয়ে দিলেন সোজাসাপটা শ্রীলঙ্কার প্রাপ্তি এখন অতীত, এবার মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে নতুন চ্যালেঞ্জ।

গেল বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান সিরিজের আগে গতকাল সন্ধ্যায় ফ্লাড লাইটের আলোতে অনুশীলন করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তার আগে ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আসেন দলের অধিনায়ক লিটন দাস। সেখানেই তিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সিরিজ জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার আশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘চেষ্টার তো কখনো কমতি থাকবে না (সিরিজ জেতার) শুধু দুইটা কেন, যদি ব্যাক টু ব্যাক অনেকগুলো সিরিজও হয় আমাদের একই মাইন্ডসেট আপ থাকবে, একই লক্ষ্য থাকবে, সেটা সিরিজ জেতার। বাট পার্টিকুলারলি ম্যাচে আমি বললাম যে, আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। শ্রীলঙ্কায় দুই দিন আগে যেটা ঘটে গেছে ওটা এখন অতীত। এই সিরিজে এখন এটা নতুন জায়গা, নতুন ভেন্যু, তাই সবকিছু নতুনভাবে নিতে হবে, যেখানে নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। আর আমরা প্রস্তুত এই চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার জন্য।’

শুধু শ্রীলঙ্কা সফর জয়ের বিষয়টি নয়, সর্বশেষ পাকিস্তানে সিরিজ হারের স্মৃতিও মাথায় রাখতে চাইছেন না লিটনরা। তাদের নজর আজ থেকে শুরু হওয়া সিরিজ নিয়েই। যদিও ঘরের মাঠে খেলা হলেও প্রতিপক্ষকে নিয়ে বেশ সতর্ক স্বাগতিকরা। কেননা এর আগে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান দল তিনবার বাংলাদেশ সফরে এসেছিল। তার মধ্যে একবার বাংলাদেশ জিতেছিল সেটিও প্রায় ১০ বছর আগের ঘটনা (২০১৫ সাল)। সবশেষ পাকিস্তান ২০২১ সালের সফরে এসে তিন ম্যাচের সিরিজে ধবলধোলাই করে গিয়েছিল টাইগারদের, সেটিও এই মিরপুরেরই ঘটনা।

তবে এবার আর সেই সিরিজ হারের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চান না লিটন দাসরা। এ নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘এই সিরিজটা মোটেও সহজ হবে না। তাদের দলে রহস্য স্পিনার আছে, যারা ভালো বল করতে পারে। আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ থাকবেই। মিরপুরে সবসময় চ্যালেঞ্জিং হয়। তবে যে কোনো দলকে হারানোর মতো মানসিকতা আমাদের আছে। আমরা সেই চেষ্টাই করবো। তবে আপনাকে নির্দিষ্ট দিনে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। তার মানে এই না যে, হোম কন্ডিশন বলে আমরাই ভালো ক্রিকেট খেলবো। তাদের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই বিপিএল খেলে থাকে। তারাও সেই কন্ডিশনটা সম্পর্কে জানে। আমরা চেষ্টা করবো, ভালো ক্রিকেটটা খেলার।’

এ দিকে আগামী মাসে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ স্থগিত হওয়ায়, এশিয়া কাপের আগে এটি বাংলাদেশের শেষ সিরিজ। তাই এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য লড়াইয়ে যাওয়ার আগে দল গুছিয়ে নেওয়ারও শেষ সুযোগ এটি। তাই শ্রীলঙ্কায় ঐতিহাসিক সিরিজ জেতা দলকেই পাকিস্তানের বিপক্ষে নামিয়ে দিচ্ছে। লিটনের কাছে এটাই বর্তমানে তাদের সেরা দল। যদিও এই দলের বাইরেও একাধিক খেলোয়াড় রয়েছে, যারা এই ফরম্যাটে ধারাবাহিক ছন্দে রয়েছেন।

লিটন দাস বলেন, ‘এটা এখন আমাদের হাতে সেরা দল। অবশ্যই বাংলাদেশে অনেক ভালো ভালো ক্রিকেটার আছে, যারা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছে। যদি প্রয়োজন পড়ে, অবশ্যই তারা এই দলে আসতে পারে। তবে কন্ডিশন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন ম্যানেজমেন্ট নির্দিষ্ট দিন, নির্দিষ্ট কন্ডিশনের ওপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব (একই একাদশ নাকি বেঞ্চের শক্তি দেখা)। আমাদের দলের যে বেঞ্চের শক্তি আছে, সবাই খেলার মতো সামর্থ্যবান। আমরা থেকে ঠিক করবো, কোন সময় কাকে খেলানো যায় আমরা সেভাবেই চেষ্টা করবো।’