আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভা এলাকার শ্রী ইমন প্রামানিক (২৭) নামের এক যুবক নওগাঁ থেকে নওগাঁ থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর অসেচতন অবস্থায় রাজশাহির ঘোড়ামারা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তার পরিবারের লোকজন। গত রোববার (১২ জুলাই) রাতে শ্রী ইমন প্রামানিকে নওগাঁ সদরের নওজোয়ান মাঠ থেকে অপহরণ করা হয়। শ্রী ইমন প্রামানিক সান্তাহার পৌরসভার হাউজিং কলোনী এলাকার বিকাশ চন্দ্রের ছেলে এঘটনায় গত সোমবার আদমদীঘি থানায় একটি ডায়েরি করেন ইমনের বাবা।
ইমন প্রামানিকের বাবা বিকাশ চন্দ্র জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে তার নম্বরে রাজশাহী শহরের ঘোড়ামারা থেকে ্এক ব্যাক্তির একটি ফোন আসে। ফোনে জানানো হয়, ইমন প্রামানিক নামের এক যুবককে তারা অচেতন অবস্থায় পেয়েছে। বর্তমানে ইমন তাদের হেফাজতে রয়েছে। এমন সংবাদ পেয়ে ইমনের বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা রাজশাহী যান এবং তার ছেলে ইমনকে সেখানে দেখতে পান। ওই এলাকার লোকজন তাকে জানায়, গত মঙ্গলবার সকালে তারা অচেতন অবস্থায় ইমনকে রেললাইনের পাশে পড়ে থাকতে দেখে সেখান থেকে লোকজন ইমনকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের নিকট নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর কিছু সময়ের জন্য ইমনের জ্ঞান ফিরলে সে তার পরিবারের ঠিকানা বলতে বলে। বিকাশ চন্দ্র জানান, ইমন বাসায় আসার পর থেকে ঘুমিয়ে রয়েছে, সে কারনে তার নিকট থেকে বিস্তারিত কিছু জানা সম্ভব হয়নি। সান্তাহার ফাঁড়ির পুলিশের উপ পরিদর্শক বকুল হোসেন জানান, ইমনের জ্ঞান ফিরলে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। অসুস্থ্য ইমন বর্তমানে নওগাঁ সরকারি কলেজ থেকে অনার্স ফাইনাল পরিক্ষা দিচ্ছেন এবং তার বাবা বিকাশ চন্দ্র সান্তাহার পৌরসভার একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। উল্লেখ্য :
শ্রী ইমন প্রমানিক গত রোববার সন্ধ্যায় নওগাঁর নওজোয়ান মাঠে এক বন্ধুর কাছে পাওনা টাকা নিতে গিয়ে রাতে আর বাড়ি ফিরে আসেনি এবং ইমনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করে ইমনের কোন সন্ধান না পেয়ে পরদিন গত সোমবার দুপুরে বিকাশ চন্দ্রের মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। ওই ফোনে ইমনকে ছেড়ে দেয়ার জন্য ১৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ফোনে ফোনের কথা অনুযায়ী অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির দেয়া বিকাশ নম্বরে ১৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন ইমনের বাবা বিকাশ চন্দ্র। পরে আবারো ইমনের ফোন ব্যবহার করে আরো ১০ হাজার টাকা দাবি করেন ওই চক্রটি। এরপর ফোন বন্ধ পাওয়া যায় তাদের।
