এমপিও স্থানান্তর সমস্যায় ৬৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেতন বন্ধ পাঁচ শতাধিক শিক্ষক কর্মচারীদের মানবেতর জীবন যাপন

মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর (পাবনা) ঃ
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বেতন খাত থেকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে বেতন স্থানান্তর সমস্যায় চার মাস ধরে আটকে আছে দেশের তেষট্টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা। এতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। বিষয়টি সুরাহার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ দফতরে দফতরে ঘুরাঘুরি করেও পাচ্ছেন না সুফল।
এবিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকা ৬৩ বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে দেওয়ার জন্য কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে মহাপরিচালক বরাবর ইতিমধ্যেই একটি প্রতিবেদন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শোয়াইব আহমাদ খান কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা সচিব ড. খ.ম কবিরুল ইসলাম বরাবর ওই সকল শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ভাতা ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বাজেট থেকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে স্থানান্তর পুর্বক পুনঃউপযোজনের করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদান নিশ্চিত করনের জন্য প্রতিবেদন প্রদান করেছেন।
এ বিষয়ে আজিমনগর কম্পিউটার কারিগরি স্কুল ও বাণিজ্যিক কলেজের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বেতন খাত থেকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে বেতন স্থানান্তর সমস্যায় চার মাস ধরে আটকে আছে দেশের ৬৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষক ও কর্মচারিদের বেতন। এর মধ্যে আমার প্রতিষ্ঠানের ১৩ জন শিক্ষক ও কর্মচারি ভুক্তভোগী রয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান তিনি। ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান ও কর্মচারি আতাউর রহমান বলেন, পরিবারে বাবা-মা, স্ত্রী সন্তান নিয়ে ৪ মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। তারপর এখন চলছে রমজান মাস। রোজা রাখতে ভালো কিছু বাজারও করতে পারছি না। অসুস্থ্য বাবা মা’র চিকিৎসা ও ঔষধ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আসছে ঈদের আগে বেতন না পেলে পরিবারের সকলের
পোশাক ও ঈদের বাজার করতে না পারলে মৃত্যুছাড়া কোন উপায় নেই।
আনোয়ারা আজাদ মাধ্যমিক কারিগরি ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট (স্কুল এন্ড কলেজ) অধ্যক্ষ মোছা. মারজিয়া বেগম ও দুর্গাপুর আডিয়াল টেকনিক্যাল হাইস্কুলের অধ্যক্ষ মো. ইয়ারুল হক বলেন, শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বন্ধ চার মাস। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্বল্প বেতনে চাকরি করা বেসরকারি শিক্ষকরা বেতন বন্ধে জীবন চলাচলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এই রোজায় একটু ভালো বাজার করার সাধ্য হচ্ছে না। সামনে ঈদ, দুশ্চিন্তায় ভুক্তভোগী শিক্ষক কর্মচারীরা।

বিষয়টি সুরাহার জন্য শিক্ষা দফতরে দফতরে ঘুরাঘুরি করেও পাচ্ছি না কোন সুফল। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।
এ বিষয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। আমাদের দিক থেকে কাজের কোনো ঘাটতি থাকবে না। গুরুত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।