বিশেষ প্রতিনিধি :
পাবনা নগরবাড়ি এলাকার গনি ফকির এবং তার ভাতিজা রাজ্জাক ফকির ও বাপ্পি ফকির তাদের দলবল নিয়ে নগরবাড়ি ঘাটে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম শুরু করেছে।
৫ আগস্ট আ.লীগ সরকার পতনের পর থেকেই তারা মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে অন্যায় অপকর্ম করে আসছে। ওই এলাকার ব্যবসায়ীসহ সকল সাধারণ মানুষ যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যাবস্থা নিতে দাবি জানান।
সম্প্রতি নাটিয়াবাড়ি দক্ষিণপাড়ার মাছ বিক্রেতাদের উপর হামলা করে গুরতর জখম করে পাবনা সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তারা গরীব ও নিরীহ মানুষ হওয়াতে কোনো মামলা করেনাই কিন্তু আমিনপুর থানা বিষয়টি অবগত আছে।
এরপর তারা চাঁদাবাজি কেন্দ্র করে ভিকটিমদের আবার নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করে আহত করেলে ২৬ ফেব্রুয়ারি জাভসাখিনী ইউনিয়ানের শাহাদত শেখের ছেলে বিশ্বদা শেখ (৩৫) বাদী হয়ে আমিনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায় গত ইং ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর অনুমান সাড়ে ১২ টায় পূর্বপরিকল্পিত ভাবে লাঠি, লোহার রড, হাসুয়া, রামদা, চাপাতি, ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ আমিনপুর থানাধীন রঘুনাথপুর মৌজাস্থ নগরবাড়ীঘাট দুষ বাজার সংলগ্ন পাকা রাস্তার উপর এসে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। তারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বেধরক মারপিট করে গুরুতর জখম করে।
ফকির পরিবারের হুকুমে তার সন্ত্রাসী বাহিনী ধারালো রামদা দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে বসন্তপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রাসেল (৪৫) এর পিঠে, মাথার সামনে ও পিছনে পর পর দুটি কোপ দিলে মাথা কেটে গর্ত হয়ে যায়।
মৃত আজিজ খাঁর ছেলে বিপুল খাঁ (৪০) কে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো হাসুয়া দিয়ে কোপ দিলে সে বাম হাত দিয়া ঠেকানোর চেষ্টা করিলে হাসুয়ার কোপ বাম হাতের কেনুর উপরে লাগে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়। তারপর লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে সে বাম হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে হাতের কেনুর নীচে হাড় ভাঙ্গে গুরুতর জখম হয়।
আইয়ুব আলীর ছেলে সোহাগ (২৩) কে ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার মাঝখানে সজোরে কোপ দিলে রক্তাক্ত জখম হন।
এভাবে লাল চাঁদ (৩৫), আশরাফুল (২০), হৃদয় (২০),
সবারত (১৯) কে কুপিয়ে ও এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরতর আহত করে।
এরপর মৃত হামিদ ফকিরের ছেলে রাজ্জাক ফকির (৪৮) ও মানিক ফকির, মৃত জনাব খাঁর ছেলে মোঃ রিপন (৪৫), মৃত মাছিমের ছেলে হারুন (৪৫), মিজানুর মিয়ার ছেলে মোঃ চপল। (৩০), জাকির শিকদারের ছেলে মোঃ সিয়াম (২৫), মৃত লোবেন খাঁর ছেলে মোঃ সন্টু (৪০), কোবাদ আলীর ছেলে মোঃ কোহিনুর (৩৮), বাচ্চু মিয়ার ছেলে মোঃ রাজ্জাক (৩৮) ও সুজন মিয়া (৩০), আঃ জব্বারের ছেলে মোঃ জীবান (৩০), মৃত মতিয়ার মিয়ার ছেলে আঃ জব্বার (৬৫), মৃত ইমান আলীর ছেলে রেজাউল করিম (৪৫), ইমান আলীর ছেলে মোঃ আকাই (৩৫), মৃত জনাব খাঁর ছেলে মোঃ স্বপন (৩০),
মিজানুর মিয়ার ছেলে মোঃ চয়ন (২৫), কোবাদ আলীর ছেলে মোঃ শাহিনুর (২৮), আলম চায়ের দোকানদার (৫০), কোবার আলী (৫০), মাবুদ খাঁর ছেলে লাল চাঁদ (৩০), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে একরাম খাঁ (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৬০/৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
শুধু তাই না কিছুদিন আগে গনি ফকিকের নাতি সিয়াম শিকদার আধিপত্য বিস্তার করতে নাটিয়া বাড়ি চেইবাড়ি এলাকার রাব্বির উপর আক্রমণ চালায়। রাব্বি দৌড়ে পালালে সে তাকে ধাওয়া করে পিস্তল দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি করে যা আমিনপুর থানা অবগত আছে।
রাজ্জাকের নেতৃত্বে চপল, সিয়াম, আকাই, কোহিনুর গং নগরবাড়ীঘাট দুধ বাজারের পার্শ্বে মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে ব্যবসায়ী মিন্টুর বষন্তপুরে কয়লা, সার, সিমেন্টের কার্যালয়ে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে ম্যানেজার রাজুকে জিম্মি করে ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ ২৩ লক্ষ্য ৭৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এছাড়াও তাদের আরও অনেক অপকর্মের কথা উল্লেখ আছে সেখানে।