নাটোর প্রতিনিধি: রাজশাহীগামী যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও ২ নারী যাত্রীকে শ্লীলতাহীন ঘটনায় অভিযোগ না নেওয়া সহ দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নাটোরের বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলামকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।শুক্রবার(২১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী রেঞ্জ উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান। এদিকে রাজশাহীগামী যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় টাকা, মোবাইল ও দেশীয় অস্ত্র।
ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানীর ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় সেবা নিতে গিয়ে কাক্সিক্ষত সেবা পায়নি বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একারণে তাকে প্রত্যাহার করে নাটোর পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওসির দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিষয়টি ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করেছে। আজ বিকেলে বড়াইগ্রাম থানা পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থল এলাকায় গিয়েছি এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছি ।ভুক্তভোগীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের ভেতরে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারবো।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এর আগে, শুক্রবার আসামিদেরকে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মানিকগঞ্জ জেলার লাউতারা গ্রামের মফিদুল ইসলাম ওরফে মুহিত, শরিয়তপুরের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সবুজ এবং ঢাকার সাভার থানার টান গেন্ডা গ্রামের শরীফুজ্জামান শরীফ। তারা সবাই আন্ত জেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের কাছ থেকে ৩টি লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন, ১টি ছুরি, নগদ ২৯ হাজার ৩৭০ টাকা জব্দ করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার।
প্রস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১টা ৪৫ মিনিট থেকে আনুমানিক ৩টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্তবাসে একটি ডাকাতি সংঘটিত হয়। এসংক্রান্তে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানায় একটি ডাকাতিসহ শ্লীলতাহানির মামলা রুজু হয়। মামলাটির তদন্তে টাঙ্গাইল মির্জাপুর থানা পুলিশের একাধিক অভিযানিক দল তদন্তে নামে।
গোপন তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় টাঙ্গাইল জেলার ডিবি পুলিশ মামলা রুজুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজন ডাকাতকে ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানাধীন গেন্ডা এলাকা থেকে গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ডাকাতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) এইচ. এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ইউনিক রোড রয়েলস পরিবহনের আমরি ট্রাভেলসের একটি বাসে মির্জাপুর এলাকায় তিন ঘণ্টা ধরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। শ্লীলতাহানি করা হয় দুই নারীকে। পরে যাত্রীরা বাসটি আটকে নাটোরের বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের সহায়তা চায়। বাসযাত্রীদের হাতে আটক বাসচালক বাবলু, সুপারভাইজার মাহবুব ও হেলপার সুমনকে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাদেরকে ৫৪ ধারায় আদালতে তোলা হলে তারা জামিনে মুক্তি পান। বৃহ¯পতিবার রাতে ওই ঘটনায় বাসের যাত্রী ওমর আলী বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় অজ্ঞাত ৮-৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ##