পুঠিয়ায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িতে হামলা লুটপাট

নাজিম হাসান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সরকারি জায়গায় প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণ করায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িতে হামলা ভাংচুরসহ একটি মোটরসাইকেল আগুন দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমাবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির মালিকের নাম জাহাঙ্গীর আলম (৩৫)। তার বাবার নাম নুরুল ইসলাম। জাহাঙ্গীর বর্তমানে বিদেশে রয়েছে। এলাকাবাসি সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার ভালুকগাছি ইউনিয়নের ফুলবাড়ি চার মাথার মোড় এলাকায় প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম কয়েক মাস পূর্বে সরকারি জায়গা না ছেড়ে বাড়ি নির্মাণ করেন। এ সময় স্থানীয়রা সরকারি জায়গায় বাড়িটি নির্মাণ করায় প্রতিবাদ শুরু করে। এতে সে কারো কথা কর্ণপাত না করে বাড়িটি নির্মাণ করে। তখন থেকে জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারের সাথে স্থানীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সোমবার সকালে জাহাঙ্গীরের প্রতিবেশি সাইফুল ইসলামের সাথে উক্ত বিষয়ে জাহাঙ্গীরের ভাই মনিরুল ইসলাম জুয়েলের সাথে কথা কাটা-কাটি শুরু হয়। কথা কাটা-কাটির এক পর্যায়ে মনিরুল ইসলাম জুয়েলের হাতে থাকা সাবল দিয়ে সাইফুল ইসলামের মাথয় আঘাত করলে সাইফুল ইসলামের মাথয় গুরুতর জখম হলে সেখানে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহীর রামেক হাসপাতালে পাঠায়। বিষয়টি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এসময় একটি জাহাঙ্গীর আলমের শশুর আব্দুল কাদেরের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এসব ঘটনায় তাদের অন্তত ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বাড়ির ভিতরে ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি অস্বীকার করে স্থানীয় বিএনপি নেতা সাগর হোসেন বলেন, রাস্তার জায়গা না রেখে বাড়ি নির্মাণ করা হয়। বাড়ি নির্মাণের সময় স্থানীয় জনসাধারণ বাধা দেয় এবং রাস্তার জায়গা ছেড়ে বাড়ি নির্মাণ করতে বলেন। কিন্তু জাহাঙ্গীর আলম কারো কথা কর্ণপাত না করে বাড়ি নির্মাণ করেন। তিনি বলেন, ওই রাস্তা সংস্কার কাজ চলছে। কিছু মাটি তার বাড়ির সামনে রাখা হয়েছিল। জুয়েল গিয়ে সেগুলো ফেলে দেয়। এ সময় সাইফুল বাধা দিয়ে তাকে পিটিয়ে জখম করে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে গ্রামবাসী তার বাড়িতে হামলা করে। এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ করিব হোসেন জানান,খবর পেয়ে দুই দফায় সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দুপুর ৩টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#