মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর (পাবনা)
শীতের আগমণী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যে সেজে উঠতে শুরু করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি চলনবিল। বিলের জলরাশি ও আশপাশের জলাশয়ে দেখা মিলছে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির। পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে চলনবিল অঞ্চল পরিবেশ। বিলের জলাভূমিতে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। পাখির কলকাকলি আর জলরশির মিতালিতে বদলে গেছে বিলের চিরচেনা দৃশ্যপট। তবে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ অবৈধ পাখি শিকার। ভোর থেকেই অতিথি ও দেশীয় পাখির ওড়াউড়ি আর কোলাহল মুখর হয়ে ওঠে চলনবিল।
প্রতি বছর শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জলাভূমির মতো চলনবিলেও অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এসব পাখির বিচরণে বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়।
অতিথি পাখির উপস্থিতি উপভোগ করতে প্রকৃতিপ্রেমী ও পাখিপ্রেমীদের মধ্যেও তৈরি হয় বাড়তি আগ্রহ।
মৎস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলে শীতের শুরুতেই নানা প্রজাতির অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। কাকডাকা ভোর হতেই এ সকল পাখি খাবারের জন্য নেমে পড়ে বিল-জলাভূমিতে।
নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো যেন এক অপরুপ সৌন্দর্য ফুঠে ওঠে। সন্ধ্যা হলেই ঝাঁক বেঁধে পাখির দল গাছে গাছে নিরাপদ আশ্রয় নেয়। বিলের অল্প পানিতে সাদাবক, গাংচিল, বালিহাস, পানকৌড়ি, ডাহুকসহ নানা রকমের পাখির ডুব দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য ও ঋষি বকের ধ্যান মগ্ন ছবি মানুষের মনে অনাবিল সুখানূভুতির সৃষ্টি করেছে। চলনবিল এখন অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত ও পাখির মিলন মেলায় রুপ নিয়েছে। তবে বসে নেই শিকারীরা। নানা উপায়ে সৌখিন ও মৌসুমি শিকারীরা পাখি শিকারে ব্যস্থ হয়ে পড়েছেন। মারা পড়ছে পাখি।
পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলা বেষ্টিত চলনবিলে প্রকৃতির মাঝে সাদাবক, পানকৌড়ি, শামুকখোল, বালিহাসসহ অসংখ্য অতিথি পাখির ডানা মেলে উড়াউড়ি, কোলাহল, কলরব চোখে পড়ে। আর মাছে ভরপুর হাটু পানিতে প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির মিলন মেলায় যেন স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে চলনবিল জুড়ে।
চলনবিলের কৃষকের ভাষ্য, সাদা বকপাখি চলনবিলের কৃষকের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। এ বছর এই বিলে হাজারো অতিথি পাখির আগমন হয়েছে। এর মধ্যে সাদা বক ও শামুকখোল পাখি বেশি চোখে পড়ছে। এই বক ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে থাকে। আবার হালচাষের সময় পেছনে পেছনে সাদাবক দল বেঁধে পোকামাকড় খেতে ভীড় জমায়। তাছাড়া পাখি বিলের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে থাকে। তারা কাউকেও এই বিলের পাখি শিকার করতে দেন না।
চাটমোহর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভূগোল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারি অধ্যাপক মোঃ মুক্তি মাহমুদ বলেন, অতিথি পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চলনবিলের জীববৈচিত্র্য ও অতিথি পাখি রক্ষায় প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ।
চাটমোহর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম কালু বলেন, অতিথি পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। পাখি শিকার, অবাধে পাখিকে বিরক্ত করা এবং তাদের আবাসস্থল নষ্ট করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য ধরে রাখতে অতিথি পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশি^ত করা।
পরিবেশবাদী সংগঠন চলনবিল রক্ষায় আমরার সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম মধু জানান, শীত প্রধান দেশ থেকে প্রতি বছর এই সময় চলনবিলে নিজেদের আহার যোগাতে বক, বালিহাস, পানকৌড়ি, শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে আসে।
প্রকৃতির মাঝে পাখ-পাখালির বিচরণ ও ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি করে। এরই মাঝে কিছু লোভী শিকারি ফাঁদ পেতে সেই পাখি শিকারও করে থাকে। এই বিলের পাখি রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
পাখি শিকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
চাটমোহর উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ খালিদ হাসান বলেন, চলনবিল জীববৈচিত্র্যয় ভরপুর একটি বিল। এই বিলের পাখি ও পরিবেশ রক্ষায় চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সকলকে সচেতন হতে হবে।
