ভাঙ্গুড়ায় নারীর ঝুলন্ত মরদেহ নিয়ে দুই পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

‎ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:
‎‎পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গত ১৭ অক্টোবর রোজিনা খাতুন (৫৫) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে দুই পরিবারের মধ্যে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ চলছে। নিহত ওই নারীর ভাই দেলোয়ার হোসেন রোজিনার মৃত্যুতে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের দায়ী করে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন। অপরদিকে রোজিনার স্বামীর পরিবারের লোকজন রোজিনার আপন ভাই দেলোয়ার হোসেনের প্রতারণার কারণে রোজিনা আত্মহত্যা করেছেন বলে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন। উভয়পক্ষ এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
‎
‎শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের স্বামীর ভাতিজা রাশিদুল ইসলাম জানান, রোজিনা খাতুন তাঁর চাচা মৃত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী। প্রায় ৩২ বছর আগে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের একমাত্র মেয়ে শাম্মী আক্তার বৃষ্টি বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে বগুড়ায় বসবাস করেন। চলতি বছরের ২ এপ্রিল রফিকুল ইসলাম মারা যান। তাঁর দাবি, মৃত্যুর আগে রফিকুল ইসলাম নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি মেয়ের নামে লিখে দেন।
‎
‎রাশিদুল ইসলাম বক্তব্যে আরও বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর রোজিনা খাতুন নিজ বাড়িতে অনেকটা একাকী জীবনযাপন করতেন। গত ১৭ অক্টোবর রাতে ভাঙ্গুড়া খাঁপাড়ায় নিজ বসতঘরে তাঁকে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনার আগের দিন থেকে তিনি ও তার স্ত্রী শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে এসে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধার করতে দেখেন বলে জানান। অথচ এই ঘটনায় তাকে প্রধান অভিযুক্ত করেছেন প্রতিপক্ষের লোকজন। এরপর মরদেহ থানায় নেওয়া হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

‎
‎তিনি আরও অভিযোগ করেন, দাফন শেষে বাড়িতে ফেরার পর রোজিনা খাতুনের ভাই ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাঁদের দায়ী করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।
‎
‎লিখিত বক্তব্যে রাশিদুল ইসলাম আরও দাবি করেন, সাবেক নৌবাহিনীর সদস্য মৃত রফিকুল ইসলামের নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার তাঁর স্ত্রীর ভাইদের কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেন। মৃত্যুর চার-পাঁচ দিন আগে রোজিনা খাতুন ওই অর্থ ও স্বর্ণালংকার আনতে গেলেও তাঁকে সেগুলো না দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তাঁর ধারণা, দীর্ঘদিনের একাকিত্ব এবং ভাইদের সঙ্গে বিরোধের কারণে রোজিনা খাতুন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এ কারণে আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
‎
‎এ ঘটনায় পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বেড়হাউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনার ভাই প্রকৌশলী মোঃ দেলোয়ার হোসেন (দুলাল), মোঃ হেলাল হোসেন ও মোঃ সোহেল রানাসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে যথাযথ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান রাশিদুল ইসলাম।
‎

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে রোজিনার ভাই দেলোয়ার হোসেন ভাঙ্গুরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, নিহতের ঝুলন্ত ছবি, শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্নে এটি স্পষ্ট হত্যা বলে প্রতিয়মান হয়। এতে তিনি রোজিনার স্বামীর ভাতিজা রাশিদুল ইসলাম সহ সাত জনকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত করেন।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, এই ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। মরদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সেই তদন্ত রিপোর্ট মোতাবেক পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফটো ক্যাপশন: (১) শনিবার সংবাদ সম্মেলন করছেন নিহতের স্বামীর ভাতিজা রাশিদুল ইসলাম।
(২) গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের ভাই প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন।