বগুড়ায় দূর্গাপূজা উপলক্ষে স্বর্ণগ্রামের নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার:
শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে বগুড়ায় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত সংগঠন স্বর্ণগ্রামের উদ্যোগে ৩ শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের মাঝে নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে নগরীর ব্যাডস হাসপাতাল মাঠে প্রতি বছরের ন্যায় এই আয়োজন হয়।
বগুড়া মাদক নিরাময় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও স্বর্ণগ্রামের উপদেষ্টা মো. আকতারুজ্জামান সরকার মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিরাম রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় গত সাত বছর ধরে ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অসহায় মানুষের মাঝে নতুন বস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে মানবিকতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। ভবিষ্যতেও স্বর্ণগ্রাম আরও ভালোভাবে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
স্বর্ণগ্রামের সহ-সভাপতি ও উত্তরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মোস্তাক আহম্মেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন সরকার, সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বর্ণগ্রামের উপদেষ্টা আবু সালেহ নয়ন এবং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল কাইয়ুম সরকার। এছাড়াও সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন স্বর্ণগ্রামের সভাপতি নূর আলম সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মুনজুর আহমেদ মুক্তা প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আর্তমানবতার সেবায় ব্রতি হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা স্বর্ণগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য। শারদ উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য এক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের কাছে সমাদৃত যে ঐতিহ্য আমাদের সকলকেই ধরে রাখতে হবে।
আয়োজনে অন্যান্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বর্ণগ্রামের উপদেষ্টা বিজয় কুমার রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত সরকার, অর্থ সম্পাদক শ্রী লক্ষণ রায় এবং সদস্যবৃন্দ যথাক্রমে আব্দুল রাজ্জাক, রশিদ সরকার, মো. সাইদুলসহ অন্যেরা।
স্বর্ণগ্রামের সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা প্রতিবছর ঈদুল ফিতর, দুর্গাপূজা ও শীতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। এ ছাড়া তারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে আসছেন, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ইতিবাচক এই কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।