॥ এবিএম ফজলুর রহমান॥
“মন ভালো তো জীবন ভালো” কথাটি শুনতে যতটা সহজ, বাস্তবে তা নিশ্চিত করা ততটাই কঠিন। আমরা শরীরের সামান্য অসুস্থতাতেও চিকিৎসকের কাছে ছুটে যাই, কিন্তু মন যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যখন দুশ্চিন্তা, হতাশা কিংবা একাকিত্ব আমাদের ভেতর থেকে ক্ষয় করতে থাকে, তখন অনেক সময় তা কাউকে বলতে দ্বিধা করি। কারণ এখনো আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে রয়েছে নানা সংকোচ, ভুল ধারণা ও সামাজিক কু সংস্কার। আর সেই কারণেই বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
আজ ১০ অক্টোবর, বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। দিবসটি উপলক্ষে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব, চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সামাজিক কুসংস্কার দূর করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ মেন্টাল হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণার বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ৫ কোটি ২২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪৫ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। ২০১৮-২০১৯ সালে পরিচালিত গবেষণায় এ চিত্র উঠে আসে বলে জানানো হয়েছে।
পাবনা মানসিক হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি বিভাগের প্রধান ডা. শফিউল আযম বলেন, দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা এখন মানসিক স্বাস্থ্য। এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাঁর মতে, বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশে চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ, প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোর ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে দেশের অন্যতম প্রধান বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান পাবনা মানসিক হাসপাতালেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে হাসপাতালটি নিজেই যেন সংকটের ভারে ন্যুব্জ-যে প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষ।
পাবনা মানসিক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৭ সালে পাবনার শীতলাই হাউসে মানসিক হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। পরে পাবনার হেমায়েতপুরে ৩৩৩ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয় ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতালটি। এর মধ্যে ৩৫০টি নন-পেয়িং এবং ১৫০টি পেয়িং শয্যা রয়েছে। হাসপাতালটিতে ১৮টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা রয়েছে।
পাবনা মানসিক হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি বিভাগের প্রধান ডা. শফিউল আযম সমকালকে বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। বহির্বিভাগে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি করানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি জানান, হাসপাতালে এমন অনেক রোগী রয়েছেন, যাঁদের ভুল ঠিকানা দিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের কেউ ৩০ বছর, কেউবা ৪০ বছর ধরে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে সাত-আটজনের হাসপাতালেই মৃত্যু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে অবস্থানরত এসব রোগীর পরিচয় শনাক্ত, স্বজনদের খুঁজে বের করা এবং তাঁদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের রোগীদের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
পাবনা মানসিক হাসপাতালের কেনাকাটা ও বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহের কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, একটি সিন্ডিকেট চক্র মানসিক রোগীদের নামে বরাদ্দ করা অর্থ থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট করছে।
সূত্রটির অভিযোগ, সম্প্রতি প্রায় ২০ কোটি টাকার এমএসআর, খাদ্য, লিলেনসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী সরবরাহের কাজ দরপত্র ছাড়াই একই প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ক্রয়াদেশ, দরপত্রসংক্রান্ত নথি, কার্যাদেশ এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন যাচাই করে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাকফাত ওয়াহিদ বিদেশ থেকে মুঠোফোনে বলেন, তিনি একটি কাজে দেশের বাইরে রয়েছেন। দেশে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। হাসপাতালের অন্য কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
সরকারি অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা প্রয়োজন।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে পাবনা মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কর্মসূচি সীমিত বলে জানা গেছে। ১০ অক্টোবর সকালে একটি শোভাযাত্রা ছাড়া অন্য কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলেও এ খাতে চিকিৎসাসেবার সুযোগ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানোর বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন হাসপাতালে অবস্থানরত রোগীদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও পুনর্বাসন, চিকিৎসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতি বছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়। মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা তৈরি এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরাই এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এটি কেবল একটি দিবস পালনের বিষয় নয়; বরং নিজের এবং অন্যের মনের প্রতি যত্নশীল হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অঙ্গীকার।
আমরা শরীরের ব্যথা সহজে বুঝতে পারি, কিন্তু মনের ব্যথা অনেক সময় দৃশ্যমান নয়। একজন মানুষ বাইরে থেকে হাসছেন, স্বাভাবিকভাবে কাজ করছেন কিংবা সবার সঙ্গে কথা বলছেন-অথচ তার ভেতরে হয়তো চলছে তীব্র উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, একাকিত্ব কিংবা আত্মমূল্যবোধের সংকট।
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকা মানে সবসময় আনন্দে থাকা নয়। জীবনে দুঃখ, ব্যর্থতা, ভয়, রাগ, হতাশা কিংবা উদ্বেগ আসবেই। সুস্থ মানসিকতার অর্থ হলো এসব অনুভূতিকে স্বীকার করা, সেগুলো মোকাবিলা করার সক্ষমতা অর্জন করা এবং প্রয়োজন হলে সাহায্য গ্রহণ করা।
বর্তমান পৃথিবী আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে জটিলও করেছে। শিক্ষার্থীর সামনে ভালো ফল করার চাপ, তরুণের সামনে ক্যারিয়ার গড়ার অনিশ্চয়তা, চাকরিজীবীর সামনে কর্মক্ষেত্রের চাপ, পরিবারের সামনে অর্থনৈতিক সংকট-সব মিলিয়ে মানুষের মানসিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব। ভার্চুয়াল জগতে আমরা প্রায়ই অন্যের জীবনের সফলতা, আনন্দ ও বিলাসিতার সাজানো ছবি দেখি। ফলে নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে অন্যের প্রদর্শিত জীবনের তুলনা করতে গিয়ে অনেকের মধ্যে জন্ম নেয় হীনম্মন্যতা ও অপ্রাপ্তির বোধ। বাস্তবতার সঙ্গে ভার্চুয়াল জগতের এই ব্যবধান কখনো কখনো মানুষের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রযুক্তি আমাদের পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে, কিন্তু মানুষকে সবসময় কাছাকাছি আনতে পারেনি। হাজারো অনলাইন বন্ধু থাকার পরও অনেক মানুষ বাস্তব জীবনে গভীরভাবে একা। পরিবারের সদস্যরা একই ঘরে থেকেও নিজ নিজ পর্দায় ব্যস্ত; বন্ধুদের সঙ্গে কথোপকথনের জায়গা দখল করেছে দ্রুতগতির মেসেজ ও প্রতিক্রিয়া।
একাকিত্ব সবসময় একা থাকার নাম নয়। মানুষের ভিড়ের মধ্যেও একজন মানুষ গভীরভাবে একাকী হতে পারেন। তাই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শুধু প্রযুক্তির সঙ্গে সংযোগ নয়, মানুষের সঙ্গে সত্যিকারের মানবিক সংযোগও প্রয়োজন।
আমাদের সমাজে মানসিক সমস্যাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হলো লজ্জা ও সামাজিক কুসংস্কার। কেউ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলে তাকে অনেক সময় বলা হয়-“মন শক্ত করো”, “এগুলো কিছুই না”, “সবাই তো কষ্ট করে”, কিংবা “বেশি ভাবছ বলেই এমন হচ্ছে।”
কিন্তু একজন মানুষ যখন ডুবে যাচ্ছেন, তখন তাকে শুধু “সাঁতার কাটতে শেখো” বলা যথেষ্ট নয়; তাকে হাত বাড়িয়ে ধরতে হয়।
মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্ণতা, অতিরিক্ত উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা, কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে পেশাদার সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট বা প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতার পরিচয় নয়; বরং নিজের জীবনের প্রতি দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
তরুণরা একটি দেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু এই প্রজন্মই বর্তমানে নানা ধরনের মানসিক চাপের মুখোমুখি। পড়াশোনায় প্রতিযোগিতা, চাকরির অনিশ্চয়তা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, সামাজিক প্রত্যাশা, অনলাইন হয়রানি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই সন্তান বা শিক্ষার্থীর কাছে শুধু “কত নম্বর পেয়েছ?” কিংবা “কী চাকরি করবে?”-এই প্রশ্নগুলো না করে মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন, “তুমি কেমন আছ?” এই একটি প্রশ্ন কখনো কখনো একজন মানুষের জন্য অনেক বড় আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন শুরু হতে পারে পরিবার থেকেই। পরিবারের সদস্যদের উচিত একে অপরের কথা মন দিয়ে শোনা, অনুভূতিকে অবমূল্যায়ন না করা এবং বিচার না করে পাশে থাকা। কেউ তার সমস্যার কথা বললে সঙ্গে সঙ্গে উপদেশ না দিয়ে আগে তাকে শুনতে হবে। সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান প্রয়োজন হয় না; অনেক সময় একজন মানুষ শুধু চায়-কেউ তার কথা বুঝুক, তাকে গ্রহণ করুক এবং তাকে একা না থাকতে দিক।
মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের জীবনেই কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা যায়।
পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার, প্রকৃতির কাছে সময় কাটানো, নিজের পছন্দের কাজে যুক্ত থাকা এবং পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সময় কাটানো মানসিক সুস্থতার জন্য সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল বিরতি নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে বড় কথা, নিজের অনুভূতিকে অবহেলা করা যাবে না। মন খারাপ হলে নিজেকে দুর্বল ভাবার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন হলে কথা বলতে হবে, সাহায্য চাইতে হবে।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়-মানসিক স্বাস্থ্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স, শ্রেণি বা পেশার মানুষের বিষয় নয়। এটি সবার বিষয়। একজন শিক্ষার্থী যেমন মানসিকভাবে ভালো থাকার অধিকার রাখে, তেমনি একজন শ্রমিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, কৃষক, চাকরিজীবী, গৃহিণী কিংবা প্রবীণ ব্যক্তিও রাখেন।
আমাদের এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কেউ মানসিক সমস্যার কথা বললে তাকে উপহাস করা হবে না; বরং সহমর্মিতার সঙ্গে পাশে দাঁড়ানো হবে। এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে মানুষ বলতে পারবে-“আমি ভালো নেই”, এবং সেই কথার পর সে একা হয়ে যাবে না।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস তাই কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়। এটি আমাদের নিজেদের দিকে ফিরে তাকানোর দিন, প্রিয় মানুষটির খোঁজ নেওয়ার দিন, নীরবে কষ্ট পাওয়া মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর দিন।
কারণ আমরা প্রায়ই ভুলে যাই-মানুষের শরীর দেখা যায়, কিন্তু মনের ক্ষত অনেক সময় দেখা যায় না।
আসুন, এই বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে আমরা একটি ছোট অঙ্গীকার করি-নিজের মনের যত্ন নেব, অন্যের মনের কথাও শুনব এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে লজ্জা নয়, সচেতনতা ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলব।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচ দূর করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা প্রয়োজন। আর সেই লক্ষ্য পূরণে দেশের অন্যতম প্রধান বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান পাবনা মানসিক হাসপাতালের বিদ্যমান সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
সুস্থ মন কোনো বিলাসিতা নয়-এটি সুন্দর জীবনের অধিকার।
লেখক : এবিএম ফজলুর রহমান, সাংবাদিক।
এবিএম ফজলুর রহমান
সাবেক সভাপতি, পাবনা প্রেসক্লাব
ও
স্টাফ রির্পোটার, সমকাল, পাবনা অফিস
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ইং।
মোবাইল ০১৭৩২-১১৭০১১
