জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়- প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

সঞ্জু রায়, বগুড়া:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, বরং এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের গণবিস্ফোরণ। তাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশকে দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে মানুষের অধিকার হরণ, গুম, খুন ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দাসত্বের রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। সেই শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। মহান আল্লাহ যেন শহীদদের জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাঁদের চাহিদা ও দক্ষতা অনুযায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। তাঁদের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। অনেক সময় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি আহত যোদ্ধাদের ফোন করে তাঁদের সমস্যার কথা শুনছেন এবং তা সমাধানে উদ্যোগ নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির মাধ্যমে দল-মতনির্বিশেষে গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আর্থিক সহযোগিতা, চিকিৎসা এবং মানসিক সমর্থন দেওয়ার বিষয়েও সরকার কাজ করছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক আহত জুলাই যোদ্ধা গেজেটভুক্ত হওয়া ও প্রাপ্য চিকিৎসাসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি বা এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কাউকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের অনেকের শারীরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতো।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনো রাজনৈতিক দলের একক অর্জন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর সূচনা হলেও পরবর্তী সময়ে শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাই ছিল একটি গণঅভ্যুত্থান,কোনো একটি দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। এই বাস্তবতা সবাইকে মনে রাখতে হবে। ইতিমধ্যেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। সরকার আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন এবং অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করছে না। যারা এখনো তালিকাভুক্তির বাইরে রয়েছেন, তাঁদের জন্য সীমিত সময়ের জন্য আবেদনপ্রক্রিয়া আবার চালু করা হবে।
এ জন্য বাদ পড়া ব্যক্তিদের জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির মাধ্যমে অথবা স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়ে আবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়েও আবেদন জমা দেওয়া যাবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে ভার্চুয়াল যুক্ত ছিলেন খনিজ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এমপি। এ ছাড়া বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের জুলাই আন্দোলনের নেতারা, গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা এবং নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। আলোচনা সভা শেষে পাঁচটি শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।