এনামুল হক টগর
বর্ষার ভাঙনে ভিটেহারা বসত বাড়ি।
ক্ষয় ক্ষতির সংসারে জীবন বয়ে দাঁড়িয়ে থাকে দুঃখের সারি।
অভার অনটনে দেহ কাঁদে বাঁচার অধিকার।
গ্রাম ছেড়ে এসেছি অনেক দিন শ্রমের বিনিময়ে মজুরি।
পরবাসে বড় জ্বালা বধু জীবনের দুঃখ কষ্ট ক্রন্দন।
সামনের মাসে তোমার গৃহে ফিরে যাবো সংসার বন্ধন।
অসংখ্য নদী নালা খাল বিল পাড়ি দিয়ে উঠবো গাঁয়ের বাড়ি।
নদীতে তুখোর স্রোত কর্ম শেষে যাত্রা আগামীকাল দরদি।
নিশি শেষে দিনের তাঁতানো রোদ।
ঝড়ের পূর্বাভাস গর্জন শুনি তুফান ঢেউ ওঠে বর্ষার নদী।
নৌকা ছাড়বো বধু শেকড়ের টান.
বিশ্বাসে পৌঁছে যাবো বেলাভূমির উপরে সবুজ গ্রাম নন্দন।
নদী কুলে শিমুল কাশফুল বৈচিত্র্যময়।
দূর বাগিচায় রক্তজবা ফুটে আছে শিউলি প্রেমময়।
দ্বিধাগ্রস্থ আলো আঁধারে কুল নাই কিনার নাই বাঁচার ভরসা।
কতদূর যে ভালোবাসার সংসার আশা।
পুষ্টিহীন দেহ তোমার ক্ষুধায় মলিন.
চোখে অশ্রু ঝরে সর্বদাই ভালোবাসার দহন।
চারিদিকে অরক্ষিত বনভূমি বসতি.
ফসলের যৌবন মিশে আছে নিঃসঙ্গঁ স্মৃতি!
জগত জুড়ে মহামারী দূর্ভিক্ষ আহত.
অনাহারীর যন্ত্রণায় সমাজ কাঁদে ক্ষত বিক্ষত।
সময়ের সন্ত্রাসী আশার স্বপ্ন ভাঙে নির্দয়।
বাসনার সংসার ভাঙে দূর্গতি প্রাণের যন্ত্রণায়।
গাঁয়ের অসৎ নেতা গভীর রাত জাগে লুটেরা প্রতারক।
টর্চলাইট হাতে তার হেঁটে যায় কৌশল ছলনা অবাক।
বুঝে না পেটের ক্ষুধা উঁকি দেয় পরের ঘরে।
লোভ লালসার মোহ ভরা আমিত্ব অহংকার।
পাশের বাড়ির বউটি ঋণের বোঝায়.
গলায় দড়ি দেয় মরণ অভাব শরীর যন্ত্রণায়।
আমি এক অতন্দ্র প্রহরী শত্রুর ছোবলে দেহ নীল জর্জর!
তবু আমি আজন্ম লড়াইয়ে বিপ্লবী সাহসী যোদ্ধা মহাবীর!
দুষ্কৃতিকারীরা যদি আমাকে আক্রামণ করে কঠিন বিপদ।
আমার প্রেমের দাউ দাউ আগুনে শত্রুর করুন মৃত্যু হবে বিষাদ।
কোন নতুন ঘাটে তুমি দাঁড়িয়ে আছো দরদী?
জীবন নিরিবিলি প্রতিক্ষার বিরহ প্রাণ।
বর্ষায় দেহে কাঁদে যৌবনে বাসনা কাঁদে প্রেমে কাঁদে দুটি নয়ন।
গতকালও নৌকা ডুবিতে মরেছে মানুষ।
নদী ছিল প্রবল উত্তাল ভারী বর্ষণে গজব আভাস।
বহুদূর বাড়ি আমার গহীন বালুচর.
পাড়ি দেবো থৈ থৈ নীল জল মাঝে মাঝে খাল বিল নির্জন প্রহর।
দূর সবুজ মাঠে কৃষাণ বাজায় বাঁশি.
মাছরাঙা ছোবল মাড়ে মাছ ধরে গোধূলির সামনে নিশি।
যাত্রার দল গান গেয়ে বাড়ী ফিরে সামনে অথই নদী পাড়ি দেয়।
উজান দেশে বসে গতকালও ভেবেছি সদয়।
অমূল্য যৌবন তোমার চাঁদের জ্যোৎস্নায় মাখামাখি।
জমিনে বাহারী ফুল বধু.
খানকায় আউলা বাতাস শরীর স্পর্শ করে৷ মমতার মুখ।
পরাণ কাঁদে বধূ অভাবে এসেছি দূর পরবাস।
কষ্টে পুড়ে পুড়ে দেহটা হয়েছে কঠিন অঙ্গার নিঃস্ব বসবাস।
এমন করেই যদি কাটে দিন.
জীবন ক্ষয়ে ক্ষয়ে যৌবন হবে তামাদী পতিত দহন।
তখন কে দেবে ভালোবাসা বধু?
কে দেবে সংসার স্বপ্ন আশা জীবনে মুখোমুখি সাধু?
কে দেবে প্রেম বধু অনাগত নতুন জন্ম সুন্দর?
বিজ্ঞ জ্ঞানের আর্দশ উত্তরসূরী?
বুধ কাঁদে অপেক্ষায় বধু কাঁদে প্রতিক্ষায়.
এবার ফিরলে বাড়ি জীবন প্রেমময়।
বুকেতে বেঁধে রেখো বধু শত বছর ধরে ভালোবাসার বিজয়।
০৮/১০/২০২৬
