বেড়ার চরাঞ্চলের জমিগুলোতে এখনো বর্ষার পানি উঠেনি

ওসমান গনি, বেড়া (পাবনা)
উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ও ভারী বর্ষনে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পাবনার বেড়া উপজেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে নিচু এলাকা ও নদী সংলগ্ন গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট পানিতে প্লাবিত হলেও উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে কাংখিত পানি না থাকায় আগামী মৌসুমে চাষাবাদ নিয়ে কৃষকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। জানাযায় বেড়া উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯ টি ইউনিয়নের মধ্যে হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, পুরান ভারেংগা ও ঢালারচর এই ৪ টি ইউনিয়নের অধীনে রয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। চরাঞ্চলের চর নাকালিয়া, চর সাড়াশিয়া, হাটাইল আড়ালিয়া, চর নাগদাহ গ্রামের সরেজমিনে ঘুরে এবং স্থানীয় কৃষকদের অনেকের সাথে কথা বললে তারা জানান চরাঞ্চলের অধিকাংশ চাষাবাদের জমিগুলো অন্যান্য জায়গার তুলনায় অনেক উচু। বর্ষা মৌসুমে এসব জমিতে প্রায় প্রতি বছরই পানিতে প্লাবিত হয়ে পলি মাটি জমিতে পরে জমির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কৃষকরা জানান চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে আষাঢ় মাস চলে গিয়ে শ্রাবণ মাস শুরু হলেও নদীতে তুলনামূলকভাবে পানি বৃদ্ধি না পাওয়ায় চরাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় এখনো বর্ষার পানি উঠেনি। চর নাগদাহ গ্রামের কৃষক ও ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা, ওমর মোল্লা, ময়দান মোল্লা সহ অনেক কৃষক এ প্রতিবেদককে বলেন বর্ষার পানি জমিতে উঠলে জমির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ফসলাদির ফলন অনেকটা বেড়ে যায়। কিন্তু চলতি মৌসুম সহ গত তিন বছর ধরে চরাঞ্চলের এসব জমি গুলোতে বর্ষা বা বন্যার পানি না উঠার কারনে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। আবার চরাঞ্চলে পানি না উঠার কারনে অনেক আবাদি জমিতে বন-জংগলে ভরে গিয়ে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে তারা জানান। চর সাড়াশিয়া গ্রামের কৃষক হুমায়ন কবির, কাদের প্রামানিক, নুর হোসেন সহ অনেকেই জানান চরাঞ্চলের এসব জমি পানিতে প্লাবিত হতে ৪-৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেতে হবে, তাহলে এসব জমিগুলো বর্ষার পানিতে প্লাবিত হবে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত কবির বলেন বর্ষা বা বন্যার পানি জমি গুলোতে উঠলে পানিতে থাকা পলি মাটি এসব জমিতে গিয়ে পড়ে। এতেকরে জমির উর্বরতা শক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা অনেকাংশে বেড়ে যায় এবং বিভিন্ন ফসলাদির ভালো ও বেশি হয়ে থাকে। তবে চরাঞ্চলের যেসব জমি গুলোতে বর্ষার পানি উঠে না সেগুলোতে পানি সেচের মাধ্যমে এবং জৈব সার বেশি ব্যবহার করা হলে জমির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, বর্ষা বা বন্যার পানি জমি গুলোতে উঠা না উঠা প্রকৃতির বিষয়, সেটা আমাদের বা মানুষের ক্ষমতার বাইরে।