সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, মারধর, শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা, শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম ঝিনিয়া গ্রামের মৃত আছর উদ্দিনের ছেলে মো. ওহেদ আলী (৬৮)। আদালতে দায়ের করা অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৮ ও ২০১৬ সালে দুটি নিবন্ধিত কবলা দলিলের মাধ্যমে মোট ৭ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তবে একই গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৯ মে বিকেল প্রায় ৩টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা বসতবাড়ির বাউন্ডারির সাত বান্ডিল টিন ভাঙচুর করে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করেন। পাশাপাশি বাড়ির চারপাশে থাকা ১০টি ইউক্যালিপটাস, ৫টি মেহগনি, ২টি লেবু, ২টি পেয়ারা, ২২টি সুপারি, ২টি নারিকেল গাছ এবং প্রায় ৮০টি বড় বাঁশ কেটে নিয়ে যান। এতে আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বাদীর দাবি।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় বাধা দিতে গেলে ওহেদ আলীকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং ব্যবসার মালামাল কেনার উদ্দেশ্যে সঙ্গে থাকা ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী এগিয়ে এসে বাধা দিলে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুরুতর জখম হয়।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, তার প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত ওহেদ আলীকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা গত ১৩ জুন দুপুরে পুনরায় বাড়িতে গিয়ে সীমানায় বাঁশের বেড়া নির্মাণ করেন এবং রান্নাঘরের টিনের বেড়ায় কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। এতে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তাকে ও তার স্ত্রীকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে তাদের ছেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
বাদীর অভিযোগ, থানা পুলিশ মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। পরবর্তীতে আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলায় পশ্চিম ঝিনিয়া গ্রামের ইয়াছিন আলী, শহিদ মিয়া (মণ্ডল), সৈয়দ আলী, মকজ্জল মিয়া, আশরাফুল, শুকরু মিয়া, মোস্তফা ও মকবুল হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি সুন্দরগঞ্জ থানার সি.আর. নং-৩৫০২/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭, ৪৩৬, ৩৮০, ৩৫৪, ৫০৬ (পার্ট-২) ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, টিন, বিভিন্ন গাছ, নগদ অর্থ ও বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতিসহ মোট প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে।
