পাবনায় পুলিশ ঘুষ নেয়ায় দুইবার কিশোরী অপহরণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার :
একটি নাবালিকা মেয়ে অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব অবহেলায় প্রধান আসামী বখাটে যুবক দ্বারা পুনরায় মেয়েটি অপহরণের শিকার হয়েছে। বাদিকে মামলা তুলে না নিলে মেয়েকে আবারো অপহরণের হুমকী দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তা পাবনা থানার এসআই ফাহিম পারভেজ রেভিজকে বারবার জানানো হলেও তিনি আসামীদের গ্রেফতার না করায় এঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এস আই ফাহিম পারভেজ তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও ঘুষ বানিজ্য করায় বাদি-বিবাদিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবী করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, সদরের একটি নামকরা স্কুলে পড়া দশম শ্রেণীর নাবালিকা ছাত্রীকে গত ৫ মার্চ বেলা ৩টার দিকে বালিকাটির নিজ বাড়ীর সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। দোগাছি ইউনিয়নের মাদারবাড়ীয়া গ্রামের শহিদুল্লাহ’র ছেলে বখাটে যুবক রাজু (২৫) স্কুলে যাওয়া আসার পথে ঐ ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করত। বখাটে যুবকের প্রেম প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় রাজুসহ কয়েকজন বখাটে যুবক দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে জোরপূর্বক একটি সিএনজি যোগে অপহরণ করে পালিয়ে যায়। এব্যাপারে মেয়ের পিতা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে এসআই ফাহিম পারভেজ দায়িত্ব পান। তিনি মেয়ের পিতার কাছে উদ্ধার অভিযানের নামে মোটা অংকের অর্থ দাবী করেন। দরিদ্র পিতা এসআই ফাহিমের চাহিদা মোতাবেক টাকা দিতে না পারায় তিনি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন এবং অপহরণকারী রাজুর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধারে গড়িমসি করতে থাকেন। পরে মেয়ের বাবা বাধ্য হয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফাহিমকে ২০ হাজার টাকা দিলে ঘটনার এক সপ্তাহ পর গত ১২ মার্চ দিবাগত রাত ১২টার দিকে শহরের দক্ষিণ রাঘবপুর অনন্ত এলাকার একটি বাসা থেকে স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করেন তিনি। তবে এসময় অপহরণকারী রাজুকে গ্রেফতার না করে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়।
অভিযোগ সুত্রে আরো জানা গেছে, নাবালিকা মেয়েটিকে উদ্ধারের পর মেডিকেল পরিক্ষার কথা বলে দুই দিন ধরে থানা হেফাজতে রেখে আপোষ মিমাংসার অপচেষ্টা করে বাদিকে হয়রানি করা হয়। পরে জোরপূর্বক শিশু অপহরণ ও সহায়তার অপরাধে (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী-২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায়) মামলা দায়ের করে নাবালিকা মেয়েটিকে ১৪ মার্চ আদালতে প্রেরণ করা হয়। যার মামলা নং- ৩৬/২০২৬, তাং-১৪/০৩/০২০২৬ ইং। মামলায় অপহরণকারী রাজু, তার পিতা শহিদুল্লাহ ও মাতা বীনা খাতুনকে আসামী করা হয়েছে। ঐ দিনই বিজ্ঞ আদালতের আদেশ মোতাবেক মেয়েটিকে নিয়ে পিতা বাড়ি চলে যান।
এদিকে আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার না করায় তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মামলা তুলে না নিলে মেয়েকে আবারও অপহরণসহ প্রাননাশের হুমকী দেয়। বিষয়টি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফাহিমকে জানানো হলেও তিনি রহস্যজনক কারনে নিরব ভুমিকা পালন করেন। এরই এক পর্যায় নাবালিকা মেয়েটি আবারও অপহরণের শিকার হয়েছে। আসামীদের থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লেনদেনের বিনিময়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফাহিম দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদি পক্ষ।
এছাড়াও পাবনা থানায় কর্মরত এসআই মো: ফাহিম পারভেজ রেভিজের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলাসহ নানান অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। থানায় দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলা, সাধারন ডায়রি ও অভিযোগ এর তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হলে তিনি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে ফাহিম পারভেজ দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও ঘুষ বানিজ্য করায় বাদি-বিবাদিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এব্যাপারে পাবনার পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: ফাহিম পারভেজ রেভিজ বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়, মেয়েটি উদ্ধারসহ আইন অনুযায়ী যা যা করা দরকার তা করা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাটির চার্জশিট দাখিল করা হবে।