সাঁথিয়ায় আতঙ্ক নিরসনে চরমপন্থিদের পোস্টার অপসারণ করেছে পুলিশ

সাঁথিয়া(পাবনা)প্রতিনিধি:
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি (এলএম লাল পতাকা) সংগঠনের পোস্টার সাঁটানোর তিন দিন পর অভিযান চালিয়ে সেগুলো অপসারণ করেছে থানা পুলিশ। তাদের সাঁটানো পোষ্টারে আতঙ্কিত জনগনকে ভীতু ও আতঙ্কিত না হওয়ার আহবান পুলিশ প্রশাসনের। পুলিশের দাবী যারা জনগনকে আতঙ্কিত করগে এ পোষ্টার সাঁটিয়েছিল তাদের খুজে বের করে আইনেরআওতায় বনা হবে।
জানা যায়, গত শনিবার (ঈদুল ফিতরের দিন) উপজেলার আতাইকুলা, ভুলবাড়িয়া, তেবাড়িয়া, বনগ্রামসহ বিভিন্ম এলাকায় দোকান, দেয়াল ও জনসমাগমস্থলে লাল রঙের এসব পোস্টার সাঁটানো। পোস্টারে ‌‘দুনিয়ার সর্বহারা এক হও’ স্লোগানের পাশাপাশি সাম্যবাদী আদর্শ প্রচারের বিভিন্ন বার্তা দেওয়া হয়েছে। এতে কার্ল মার্কস, ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস, ভ্লাদিমির লেনিন, জোসেফ স্ট্যালিন এবং মাও সেতুংয়ের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
পোস্টারগুলোতে লেখা রয়েছে, বন্দুকের নল থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা বেরিয়ে আসে, ভোটের বাক্সে লাথি মারো সমাজতন্ত্র কায়েম করো, লাঙ্গল যার জমি তার, জাল যার জলা তার, বিদেশি কাপড় বন্ধ করো, তাঁত শিল্প রক্ষা করো, রং সুতার অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করো, করতে হবে। পোস্টারের নিচে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-লাল পতাকা) নাম উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, গোপনে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে তারা। হঠাৎ পোস্টার লাগানো তাদের নতুন করে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, চাঁদাবাজি, হত্যা, অপহরণ সব কিছু ছিল দৈনন্দিন ঘটনা। অনেক বছর ভালো ছিলাম, শান্তিতে ছিলাম। হঠাৎ এই পোস্টার দেখে আবার রাতে ঘুম হচ্ছে না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিপুলসংখ্যক সদস্য বন্দুক যুদ্ধে নিহত ও আত্মসমর্পণ করায় সংগঠনটি প্রায় নেতৃত্বশূন্য ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল।এখন আবারো সংগঠিত হতে ও ুলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে তার পোষ্টার সাঁটিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে আতাইকুলা থানার ওসি (তদন্ত) নাহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় দেয়ালে সাঁটানো চরমপন্থি সংগঠনের পোস্টারগুলো অপসারণ করা হয়। পরে জব্দ করা পোস্টারগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

আতাইকুলা থানার ওসি (তদন্ত) নাহিরুল ইসলামের জানান, এ ধরনের নাশকতামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।