মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর (পাবনা)
রবি মৌসুমে চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের মাঠ জুড়ে প্রকৃতির এক অনন্য রুপ ফুটে উঠেছে। সরিষার হলুদ ফুলে ঢেকে গেছে চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকা। দিগন্তজোড়া হলুদ আভা, শীতল বাতাস আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমিরা। প্রতিবছরের মতো এবারও চলনবিলের বিস্তীর্ণ মাঠে আবাদ হয়েছে সরিষার। সোনালী রোদে দোল খাওয়া হলুদ ফুল, সরিষা দানার মিষ্টি সুবাস আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত চারিদিক। শুধু নয়নাভিরাম সৌন্দযই নয়, সরিষার ভালো ফলনের আশাও করছেন কৃষকেরা। এছাড়া সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত খামারিরা। সরিষা আর মধু-দুই মিলে অর্থনীতিতে রাখছে ইতিবাচক ভূমিকা। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের ভালো ফলন ও
বাজারমূল্য পাওয়ায় চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ না হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা। চাটমোহর উপজেলাতেই এবার ৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষকরা প্রধানতঃ বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৮ ও বিনা-৯ জাতের সরিষার চাষ করেছেন। এদিকে সরিষার খেতে শত শত মৌবাক্স স্থাপন করেছেন মৌচাষিরা। তারা এখন মধু সংগ্রহে ব্যস্ত। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌবাক্সে নিয়ে চলনবিলে এসেছেন খামারিরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারিদিকে শুধু সরিষা ফুলের সমারোহ।
সবুজ জমির বুকে যেন হলুদের আলপনা আঁকা। চলনবিল জুড়ে এখন নয়নাভিরাম দৃশ্য, যা দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য জানান দিচ্ছে পর্যটনে অপার সম্ভাবনাময় রুপসী চলনবিলের কথা। সরিষার ফুলের মতোই কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক।
চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল পাকপাড়া গ্রামের কৃষক আঃ রহিম জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। সবমিলে খরচ হয়েছে ৯ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রায় ৫০ হাজার টাকার সরিষা বিক্রি হবে। এদিকে চলনিবিলে সরিষার চাষের সাথেই মধু চাষ বাড়ছে।
উন্নত পদ্ধতিতে মৌবাক্সে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে চলনবিলজুড়ে।
উত্তরবঙ্গ মৌচাষি সোসাইটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চলনবিল অঞ্চলে প্রায় এক হাজার মৌখামারী এসেছেন। মৌবাক্সের পরিমাণ দেড় থেকে ২ লাখ। এ মৌসুমে ৩ হাজার মে.টন মধু উৎপাদন হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান, আমদানি নির্ভর ভোজ্যতেলের বিকল্প হিসেবে ওষুধিগুণ সমৃদ্ধ সরিষা তেলের চাহিদা বাড়ায় কৃষক সরিষা আবাদে ঝুঁকেছেন, ভালো লাভ পাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ কৃষকদের সব ধরণের পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে। তিনি জানান, সরিষা খেতে আধুনিক পদ্ধতিতে মৌচাষের মাধ্যমে মধু উৎপাদন বাড়ছে, যা কৃষক ও মৌচাষি উভয়ের জন্যই লাভজনক।
