যশোর শিশু ধর্ষনের পর হত্যার ঘটনায় ফুফাতো ভাই আটক

ইয়ানুর রহমান : ঈদের দিন নিখোঁজ হওয়া ১১ বছরের এক স্কুলছাত্রীর লাশ
উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও পুলিশের গোপন তদন্তে
বেরিয়ে এসেছে ধর্ষণের পর হত্যার এক ভয়ানক ঘটনা। এ ধর্ষন পর হত্যার পেছনে
জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত শিশুর আপন ফুফাতো ভাই নয়নকে (১৯) আটক করেছে
পুলিশ।

নিহত শিশু সোহানা আক্তার ঝিকরগাছার চাঁদপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে
এবং বায়সা-চাঁদপুর মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঈদের পরের দিন
রবিবার (৮ জুন) সকালে গ্রামের একটি পুকুর থেকে সোহানা’র মরদেহ উদ্ধার করা
হয়।

সে সময় ঝিকরগাছা থানার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী সাংবাদিকদের জানিয়েছিল,
ঈদের দিন দুপুরে পরিবারের সদস্যরা কোরবানির জন্য আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে
সোহানা ও তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া বোন তন্বী বাড়িতে ছিল। বোন ঘুমিয়ে
পড়ার পর সোহানা উঠানে দোলনায় খেলছিল। বিকেলে খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া
যায়নি। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।

তবে, সোহানার বাবা আব্দুল জলিল ঝিকরগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে
একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তার মেয়ের ঠোঁটে
জখমের চিহ্ন এবং মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই
পুলিশ ঘটনাটির ছায়া তদন্তে নামে।

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এ ছায়া তদন্ত
শুরু করে। ছায়া তদন্ত এবং ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর গত মঙ্গলবার (১১ জুন)
সন্ধ্যায় পুলিশ সোহানার আপন ফুফাতো ভাই নাজমুস সাকিব ওরফে নয়নকে (১৯)
তাদের বসতবাড়ি থেকে আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে
চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। সে পুলিশকে জানায়, ঘটনার দিন তার সাত বছরের
মামাতো ভাই রিয়াজকে মামা বাড়ি দিয়ে আসার পর সে নিজ বাড়িতে আসে। এসময়
দেখতে পায়, তার ছোট বোন তন্বী রুমে ঘুমিয়ে আছে এবং বাইরে মামাতো বোন
সোহানা একা দোলনায় দোল খাচ্ছে। এই সুযোগে নয়নের মনে পাশবিক যৌন বাসনা
জাগে।

নয়ন পুলিশকে জানায়, সে সোহানাকে জাপটে ধরে তার রুমে নিয়ে যায়। সেখানে সে
সোহানার গলা ও মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে সোহানা
শ্বাসরোধে মারা যায়। এরপর নয়ন মৃতদেহটিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে
দিয়ে আসে।

নিজের অপরাধ ঢাকতে নয়ন এরপর তার বোন তন্বীকে ঘুম থেকে জাগিয়ে মিথ্যা গল্প
সাজাতে থাকে যে সোহানাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে তারা দু’জন মিলেই
সোহানার মামা বাড়িতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর জানায়। আটককৃত নাজমুস সাকিব
ওরফে নয়নকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়