নাটোর প্রতিনিধি
নাটোর সদর উপজেলায় হযরত আলী ওরফে ফজর আলীর (৬০)বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৯ মার্চ নাটোর সদর উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে গত ১০ মার্চ নাটোর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালায়। ফজর আলী একই এলাকার মৃত তহিদ গাজীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক।
মামলার বিবরণ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ দুপুরে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ রোজা রেখে অসুস্থ বোধ করায় নিজ শয়নঘরে শুয়ে ছিলেন। এ সময় হযরত আলী ঘরে প্রবেশ করে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় গৃহবধূর আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ফজর আলী। এই ঘটনায় মামলা করতে চাইলে ভুক্তভোগীকে মুখ না খুলতে হুমকি দেওয়া হয়। পরে সোমবার দুপুরে ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরের দিন রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু এখনও অভিযুক্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েনি।
স্থানীয় যুবক রাজীব আহমেদ জানান, হযরত আলীর বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে একটি প্রভাবশালী মহল আমাদেরকে হামলা করতে আসে। আমি মীমাংসার কথা বললে তারা কালক্ষেপন করতে থাকেন। পরে ১০ তারি আমরা থানায় মামলা দায়ের করি।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মতিন গাজী জানান, এ বিষয়ে এলাকায় মীমাংসার চেষ্টা করে স্থানীয়রা। কিন্তু প্রভাবশালীরা অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মামলা না করা ও বিচার না করার হুমকি দিতে থাকে। পরে আমরা পরামর্শ দেই আইনের আশ্রয় নেওয়ার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নারী জানান, শুধু এই ঘটনায় নয়, হযরত আলী নারী লিপ্সু স্বভাবের কারণে এলাকার মেয়েরা আতঙ্কিত। সে সবার সাথে অশোভন, অশ্লীল আচরণ করে। এলাকায় তার বিরুদ্ধে অনেক নারীর অভিযোগ রয়েছে। সবাই তার শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে কথার বলার চেষ্টা করা হলেও কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
নাটোর সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, ভিকটিমের স্বামীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আসামি ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।