লালপুর (নাটোর)প্রতিনিধিঃ নাটোরের লালপুরে ওয়াজ মাহফিল চত্বরে গাঁজা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় ২যুবককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার চকনাজিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ওই একই এলাকার আয়াত আলীর ছেলে আহাদ (২০) ও মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে সজীব (১৯)।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায় চকনাজিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৩দিন ব্যাপি ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেন স্থানীয়রা। গতকাল শুক্রবার ওয়াজ মাহফিলের মাঠে উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে দ্বীপসহ কয়েকজন যুবক বিদ্যালয়ের ছাদে উপর বসে গাঁজা সেবন করে। বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন যুবকের নজরে আসায় তাদেরকে ওয়াজ মাহফিলে বিদ্যালয়ের ছাদে মাদক সেবনে নিষেধ করায় দ্বীপসহ কয়েকজন যুবক দেশীয় অস্ত্রসহ আহাদ ও সবজিকে মারধর করে গুরুতর আহত করে । এসময় স্থানীয় আহত আহাদ ও সুজনকে আহত অবস্থায় লালপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে চিকিৎসা দেন। বর্তমানে তারা লালপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত আহাদ জানান গত ২০ শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দ্বীপ, সাব্বির, শিমুল সহ কয়েকজন মিলে মাহাফিল চলাকালীন সময় মাহাফিল মাঠের ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের ছাদে বসে গাঁজা সেবন করছিলেন। এসময় আমার বন্ধু বায়েজিদ, মারুফ, মুন্না, শিমুল, আসিফ, নাছিমা, মানিকসহ আমরা তাদেরকে বাঁধা নিষেধ করায় তারা আমাদের উপর চওড়া হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াজ মাহাফিলের দ্বিতীয় দিন দ্বীপসহ ১৫ থেকে ২০জন নামাজের সময় মাহাফিল চত্বরে দেশীয় অস্ত্রসহ আমাকেসহ সজিবকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়।
এবিষয়ে অভিযুক্ত দ্বীপ অস্বীকার করে বলেন ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
চকনাজিপুর ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আকবর প্রামানিক জানান ওয়াজ মাহফিল মাঠে এমন ঘটনা খুবই দুঃখ জনক। এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রইল।
চকনাজিপুর ওয়াজ মাহফিল কমিটির সভাপতি এ্যাড. মামুন জানান এশার নামাজের সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জলাসার মাঠে বিশৃঙ্খলা হয়েছে বলে শুনেছি । এটা মাহাফিল কেন্দ্রীক কোন বিষয় নেয়। মাহফিল চলমান রয়েছে, আজকে মাহাফিলের শেষ দিন।
লালপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোমিনুজ্জামান বলেন ওয়াজ মাহফিলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
