কটিয়াদীতে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুড়িখাই মেলা মঙ্গলবার থেকে শুরু ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ইজারা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের কুড়িখাইয়ে শাহ শামসুদ্দিন বুখারির (রহ.) মাজারের ওরশকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুড়িখাই মেলা আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু, চলবে আগামী ৭দিন। মেলা চলাকালীন সময়ের জন্য ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ইজারা প্রদান করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে গতশুক্রবার বিকেলে শাহ শামসুদ্দিন বুখারির (রহ.) মাজার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত মেলা বার্জা ইজারা প্রধান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবছর মেলার ইজারা ডাকে ১০জন ব্যক্তি প্রতিদ্বন্ধীতা করেন। ওপেন ডাকে অনেকের ভিন্নমত থাকায়, গোপন কুপনের মাধ্যমে ইজারার ডাক হয়েছে। এ বছর মেলার ডাক ওঠে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ডাক পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা শাহ সোহরাব উদ্দিন।
মেলার নিলাম ডাক পরিচালনা ও অর্থ কমিটির আহবায়ক এবং কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূইয়ার সভাপতিত্বে এবং সদস্য মুমুরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন সাবেরীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মেলা কমিটির সভাপতি মোঃ মাঈদুল ইসলাম। অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আবুল খায়ের, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, কটিয়াদী প্রেসক্লাবের আহবায়ক অধ্যক্ষ ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর, সদস্য সচিব মাইনুল হক মেনু, মুমুরদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ হাদিউল ইসলাম, মুমুরদিয়া ইউনয়ন ভূমি উপসকারী ও নিলাম ডাক পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহজাহান সিরাজী, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোকাররম হোসেন লিটন প্রমূখ।
প্রতি বছর বাংলা সনের মাঘ মাসের শেষ মঙ্গলবার শাহ শামসুদ্দিন বুখারির (রহ.) মাজারের ওরসকে ঘিরে আয়োজন করা হয় মেলার। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার ডেগ বসানোর মধ্যদিয়ে শুরু হয় মেলার শুভ সুচনা। ১০ সোমবাররাতে ওরশ ও ফকিরির মাধ্যমে শুরু হয় পুর্নাঙ্গ মেলা। চলবে আগামী ৭ দিন ব্যাপী। ধর্মীয় উৎসব হলেও এতে অংশ নেন সর্বস্তরের মানুষজন। মেলার অন্যতম আকর্ষণ হলো মাছের হাট। বেশিরভাগ দাওয়াতি জামাইগণ এসব মাছের মূলক্রেতা হয়ে থাকেন। মাছ দিয়ে বরণ করা হয় নতুন জামাইদের। সপ্তাহব্যাপী চলা এ মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসেছে। কাঠের আসবাবপত্র, শিশুদের খেলনা, দৈনন্দিন পণ্যসামগ্রী, মেয়েদের সাজগোজের জিনিসপত্র পাওয়া যায় এ মেলায়। রয়েছে নানান স্বাদের খাবারের দোকানও। বিন্নি ধানের খই, কদমা, বাতাসা, গুড়, জিলাপির দোকান। মেলায় নানা বয়সের মানুষের বিনোদনের জন্য পুতুলনাচ, সার্কাস, মৃত্যুকূপ, নাগরদোলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। মঙ্গলবার ভরমেলা থাকলেও বুধ ও বৃহস্পতিবার হয় বৌ মেলা। বৌ মেলায় এলাকার প্রচুর মেয়েদের সমাগম হয়ে থাকে। বৌ মেলায় মেয়েরা তাদের পছন্দ মতো সাজ সজ্জা ও আসবাবপত্র কিনে থাকেন।
মেলার নিলাম ডাক পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুড়িখাই মেলার নিলামের ইজারা ডাক ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় স্থানীয় বাসিন্দা শাহ সোহরাব উদ্দিন পেয়েছেন।
কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যবাহী কুড়িখাই মেলা উপলক্ষে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মেলা যাতে মানুষ নিরাপদে উদযাপন করতে পারে সেই বিষয়ে আমাদের পুলিশ সবসময় সতর্ক অবস্থায় থাকবে। মেলায় সিসি ক্যামেরা থাকবে। কেউ অপরাধ করলে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। মেলায় কোন ধরনের অশ্লীলতা এবং জুয়া খেলা হবে না।
মেলা কমিটির সভাপতি ও কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাঈদুল ইসলাম বলেন। মেলার সার্বিক শাহ শামসুদ্দিন বুখারির (রহ.) মাজারের ওরশকে কেন্দ্র করে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুড়িখাই মেলার ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে এলাকার জনগণ। মেলায় কোন ধরনের ঝামেরা করতে দেওয়া হবে না। মেলার পরিবেশ ঠিক রাখতে আমাদেরকে যা যা করার দরকার আমরা তার সকল কিছু করবো। মেলায় যাতে জিনিসপত্রের মূল্য স্বাভাবিক থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে। মেলায় জোয়া ও মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, মেলা কমিটির সভাপতি যেহেতু উপজেলা প্রশাসন, সেখানে জোয়া মাদকেরতো প্রশ্নই আসেনা। এসকল বিষয় আমরা সার্বক্ষনিক গোয়েন্দা নজরদারীতে রাখছি।