ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ হারালো বাংলাদেশ

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তাতে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি সরাসরি ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলারও সুযোগ তৈরি হয়েছিল দলটির জন্য। কিন্তু তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটের হারে হাতছাড়া হলো সে সুযোগ।

সম্ভাবনা জাগিয়েও প্রথমবারের মতো সরাসরি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা হলো না নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের। তবে বাছাই পর্ব খেলে বিশ্বকাপের মূল পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকছে টাইগ্রেসদের।

সেন্ট কিটসে শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৩.৫ ওভারে সব কটি ‍উইকেট হারিয়ে ১১৮ রান তুলতে সক্ষম হয় জ্যোতির দল। জবাব দিতে নেমে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ২২.৩ ওভারে জয় তুলে নেয় ক্যারিবীয়রা।

খালি চোখে একটি সাদামাটা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ মনে হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলাদেশ নারী দলের জন্য। কারণ এ সফরেই ছিল নারী চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে নিজেদের শেষ তিন। যে ম্যাচগুলোর উপর নির্ভর করছিল সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার ভাগ্য। যেখানে টিকিট নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ছিল ২-১ ব্যবধানের সিরিজ জয়।

প্রথম ম্যাচ হেরে সে লক্ষ্য থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে আশা জাগিয়েছিলেন জ্যোতিরা। কিন্তু তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটিতে লড়াইটুকুও করতে পারেননি। হারিয়েছেন সুবর্ণ এক সুযোগ। ফলে বিশ্বকাপ খেলতে এখন ৬ দলের একটি বাছাইপর্ব খেলতে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

যেখান থেকে ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে দুটি দল। এই বাছাইপর্বে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে হবে লাল সবুজদের।

চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে ২১ পয়েন্ট নিয়ে সাতে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহও সমান ২১ পয়েন্ট, তবে নেট রান রেটে এগিয়ে ছয়ে দলটি। স্বাগতিক ভারতসহ টেবিলের শীর্ষ পাঁচ দল সরাসরি ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। তৃতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলে নিউজিল্যান্ডকে টপকে যেত বাংলাদেশ।

সেই লক্ষ্যে টস জিতে আগে সেন্ট কিটসে আগে ব্যাট করতে নামলেও স্কোরকার্ডে পর্যাপ্ত পুঁজি তুলতে পারেননি জ্যোতিরা। যদিও দলীয় ৬ রানে মুর্শিদা খাতুনের আউটের পর দ্বিতীয় উইকেটে ভালো জুটি পেয়েছিল দল। ফারজানা হক ও শারমিন আক্তারের ৬২ রানের জুটিতে ভালো সংগ্রহের আভাস দিয়েছিল লাল সবুজরা। কিন্তু এ জুটি ভাঙার পরই বিপর্যয় নামে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে।

ফারজানা ও শারমিনের বিদায়ের পর বাকিদের ব্যর্থতায় ৩০.৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৯৪ থেকে ৪৩.৫ ওভারে ১১৮ রানে থামে দল। মানে মাত্র ২৪ রানের ব্যবধানে শেষ ৬ উইকেট হারায় টাইগ্রেসরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন শারমিন। ২২ রানের ইনিংস খেলেন ফারাজানা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে মাত্র ৬.৫ ওভারে ১২ রানে ৪ উইকেট নেন অফ স্পিনার কারিশমা রামহারাক।

রান তাড়ায় নেমে কোনো রকম চাপ না নিয়েই সহজ জয় তুলে নেয় ক্যারিবীয়রা। ওপেনার কিয়ানা জোসেফের ৩৯ আর ম্যাথুসের ২২ রানে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল স্বাগতিকদের।

তাদের বিদায়ের পর দিয়ান্দ্রা ডটিনের ৩৩ ও শেমাইনে ক্যাম্পবেলের ২৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে ক্যারিবীয়রা। একইসঙ্গে নিশ্চিত হয় ২-১ ব্যবধানে সিরিজও।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ সফরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে জ্যোতিরা। প্রথম ম্যাচ সেন্ট কিটসে আগামী ২৮ জানুয়ারি।