একজন মুসলমানের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের প্রধান লক্ষ্য মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আমল ও ইবাদতের সওয়াব এর ওপর নির্ভরশীল। অন্য অর্থে এটাকে বলা হয় ইখলাস। একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ইবাদত ও যাবতীয় কাজ করার নাম হলো ইখলাস।
কে আমাকে দেখছে আর কে দেখছে না, সেটা না ভেবে ‘আল্লাহ সর্বক্ষণ আমাকে দেখছেন’—এই ভয় ও ভাবনা মাথায় রেখে ইবাদত করার নাম ইখলাস। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে, যেদিনের অনিষ্ট হবে সুদূরপ্রসারী। তারা আল্লাহকে ভালোবেসে অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিদের আহার দেয়। (তারা বলে) শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা তোমাদের আহার দান করি।
তোমাদের কাছে আমরা কোনো প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করি না।’ (সুরা দাহর, আয়াত : ৭-৯)
মুসলমানের সব কাজ ইখলাসের সঙ্গে করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের এ ছাড়া আর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।’ (সুরা বাইয়্যিনাহ, আয়াত : ৫)
ইখলাস হলো আমল ও ইবাদতের প্রাণ।
এর সম্পর্ক অন্তরের সঙ্গে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহপাক তোমাদের শরীর ও অবয়বের দিকে তাকান না; বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে লক্ষ করেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)
ইখলাসের সঙ্গে অল্প আমল অধিক পরিমাণ সওয়াবের কারণ। হাদিসে এসেছে, ‘তোমার ঈমান খাঁটি করো, অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট।’ (বাইহাকি, শুআবুল ইমান, হা. ৬৪৪৩)
মহান আল্লাহ আমাদের ইখলাসের সঙ্গে আমল করার তাওফিক দান করুন।