রাজশাহীতে ইনজেকশনে হাত ভাঙ্গা রোগির মৃত্যু

রাজশাহীতে ভাঙ্গা হাতের অপারেশন করতে এসে নার্সের দেয়া অজ্ঞানের ইনজেকশনে যুুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত যুবকের নাম আবদুল্লাহ আল মারুফ। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানার আতাউর রহমানের ছেলে। মৃত মারুফের পরিবারের সদস্যদের দাবি মারুফের বাম হাতের কব্জিতে ডা. দেবাশিষ রায়ের অপারেশন করার কথা ছিলো। সে অনুযায়ী নগরী ঝাউতলা মঙ্গল আমানা ক্লিনিকে ভোর সাড়ে ৫টায় অজ্ঞান করার জন্য তাকে ইনজেকশন দেবার কথা।এসময় একজন নার্স ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাকে একটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পরেই মারুফের মৃত্যু হয়। এনিয়ে ওই সময়ই রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। আল মারুফের শ্যালক আজিজুল ইসলাম জানান, মারুফের তিন মাস আগে হাত ভেঙ্গে যায়। তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। এর পর কিছুটা সুস্থ হলে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে হাতের অপারেশন করতে গত রোববার আমানা হাসপাতালে ভর্তি হন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রোগীকে একটি ইনজেকশন দেন একজন নার্স। ইনজেকশন দেয়ার পরপরই দুলাভাইয়ের মৃত্যু হয়। পরে ডাক্তার এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এবিষয়ে মারুফের বাবা আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ডিউটি থেকে গিয়ে শুনি যে তার জ্ঞান ফিরছে না পরে আমার বউমার কাছে থেকে শুনি তাকে ইনজেকশন দেওয়ার পরই মারা গেছে। ভুল চিকিৎসায় আমার ছেলের মুত্যু হয়েছে। কিন্তু আমার ছেলে তো গেছে তাকে কাটা ছেড়ার ভয়েই আমি অভিযোগ করিনি। এদিকে, এঘটনায় আমানা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসক লুকোচুরি করেছেন। কোন ধরনের তথ্য না দেয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। আমানা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব উল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমানা হাসপাতালের কেউ নন বলে জানান। এদিকে ঘটনাটি জানার জন্য রাতে ডা. দেবাশীষ রায়ের মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। আমানা হাসপাতালের সহকারি ম্যানেজার আব্দুল রহিম জানান,এবিষয়টি আমার জানা নাই বলে দায় এড়িয়ে যান। এবিষয়ে রাজপাড়া থানার ওসি শাহাদাত হোসেন জানান, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।