নাজিম হাসান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহী মহনগরীর বড়কুঠি এলাকায় পদ্মা নদীর খেয়াঘাটে দুর্গম চরাঞ্চলের মৎসজীবী বা জেলেদের সাথে প্রায় প্রতিনিয়তই মাশুল আদায়কারীদের সাথে সৃষ্টি হচ্ছে বিরোধ। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে শারীরিকভাবেও করা হয়েছে লাঞ্চিত।এবং ইজারাদারের লোকজন জেলেদের কাছ থেকে ব্যাক বা থলে প্রতি জোড়পূর্বক হাতিয়ে নিচ্ছেন অতিরিক্ত অর্থ বলেও অভিযোগ তাদের। তবে ইজারা আদায়ের লোকজনের দাবি, দীর্ঘদিনের পুরোনো মাশুল তালিকার সঙ্গে বর্তমান ইজারার বাস্তবতার সমন্বয় না থাকায় এ নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে হট্রগোল। ফলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর দায়িত্বহীনতার কারনে ছোটখাটো জেলেদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো টাকা আদা করা হচ্ছে। জেলেদের অভিযোগ,পদ্মার ওপারের চর খানপুর ও চর মাজারদিয়ার দরিদ্র মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে আধা কেজি থেকে এক-দুই কেজি মাছ নিয়েও ঘাটে এলে ব্যাগ বা থলে প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। তাদের দাবি, নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় কয়েক ঘণ্টা পরিশ্রম করে আধা কেজি থেকে সর্বোচ্চ এক-দুই কেজি মাছ নদী থেকে ধরে শহরের সাহেব বাজার সহ অন্যান্য বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ঘাটে নামার পরেই রোষানলে পরতে হয় ইজারাদারের লোকজনের কাছে। এসময় কিছু বলতে গেলেই জেলেদের উপর ক্ষিপ্ততা দেখানোর পাশাপাশি ব্যবসা বন্ধ করে দেবার মতো ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এদিকে,ইজারাদারের ইচ্ছেমতো মাশুল আদায়ের প্রতিবাদে গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী শ্রমজীবী জেলেরা বড়কুঠি খেয়াঘাটে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিলে ইজারাদারের লোকজন তাদের বাঁধা প্রদান করেন। সেখানে উপস্থিত থাকা প্রায় শ’খানেক স্থানীয় পর্যটক ও সাংবাদিকদের সামনেই জেলেদেরকে ইজারাদারের লোকজন হুমকি-ধমকি ও হেনস্থা করেন। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতÐা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হলে উপস্থিত সাংবাদিক ও অন্যান্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। মানববন্ধন করতে আসা জেলে আলিফ, আমিরুল,মোজাহার, বাক্কার, সামালসহ প্রায় ৫০ জন জেলে এই অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের বিরুদ্ধে জোড় প্রতিবাদ করেন। তবে ঘাটের মাশুল আদায়ের দায়িত্বে থাকা ইজাদারের প্রতিনিধি সেরাজুল ইসলাম ওরফে সেরআলী জানান, বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে অবগত করলে রাসিক থেকে কিছু লোকজন এসে দশ বছর আগে এই ঘাটে মাশুল আদায়ের হার সম্বলিত যে সাইনবোর্ড স্থাপন করে গিয়েছিলে, সেই তালিকা সম্বলিত সাইনবোর্ডটি তারা পুণরায় স্থাপন করে গেছেন।রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ভাষ্য,রাসিক কর্তৃক স্থাপিত ফেরীঘাট মাশুল আদায়ের হারের তালিকা নামের বিশালাকার সেই সাইনবোর্ডে বড় বড় অক্ষরে লিখা আছে এটি বাংলা ১৪২৩ সন হতে কার্যকরী হবে। সেখানে আলাদা আলাদা ভাবে উল্লেখ আছে, যেসকল দফায় মাশুল নেয়া হবে। সর্বমোট ৪২ ধরনের দফার বিপরীতে অর্থ্যাৎ সেবার বিপরীতে এই ফেরীঘাট থেকে নির্ধারীত হারে মাশুল আদায় করবেন ঘাটের ইজারাদার। সেই ৪২টি দফার মধ্যে ২২ নম্বর দফায় বলা হয়েছে খালি মাল বস্তা প্রতি মাশুল আদায়ের হারের কথা। ১৪২৩ বঙ্গাব্দে ইজারার নিয়মানুযায়ী প্রতি বস্তার বিপরীতে ইজারাদার মাশুল আদায় করবেন ছয় টাকা। অন্যদিকে, এক মণ বা সমতুল্য কোন মালামাল সহ বস্তার মাশুল হার আদায় হবে সাত টাকা করে। যেটি ঐ তালিকার ২৩ নম্বর সিরিয়ালে উল্লেখ করা আছে। দশবছর পর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে এসে নতুন করে এই খেয়াঘাটটি ইজারা দেবার পর কর্তৃপক্ষ মাশুল আদায়ের হার সম্বলিত কোন তালিকা বা সাইনবোর্ড ঘাটের পাশে স্থাপন করেননি। এবিষয়ে,রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালে মো. নুর-ঈ সাইদ বলেন,খেয়াঘাট ইজারা প্রশাসন শাখার মাধ্যমে টেন্ডারে দেওয়া হয় এবং ইজারাসংক্রান্ত বিষয়গুলো তারাই মনিটরিং করে। নির্ধারিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের অভিযোগ থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#
