শোধনাগার চালু ও উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিতের দাবিতে সুন্দরগঞ্জ পৌরবাসীর মানববন্ধন

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দুই বছর পরও চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী। দ্রæত শোধনাগারটি চালু করে পৌরবাসীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে পৌরসভার চলমান রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতি এবং নি¤œমানের কাজের অভিযোগ তুলে গুণগতমান নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
রোববারসকাল সাড়ে ১১টার দিকে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্যে রাখেন, পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজু, সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, স্থানীয় পৌর বাসিন্দা এনামুল হক, সাইফুল ইসলাম, আবু সাঈদ মোহাম্মদ মুজাহিদ, শাহিন আলম প্রমূখ।
এসময় বক্তারা বলেন, পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনের লক্ষ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত শোধনাগারটি চালু করা হয়নি। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি অব্যবহৃত পড়ে থাকলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী।
বক্তারা আরও বলেন, সুপেয় পানি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। বিপুল অর্থ ব্যয়ে পানি শোধনাগার নির্মাণের পরও পৌরবাসীর ঘরে সুপেয় পানি না পৌঁছানো অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রæত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে শোধনাগারটি চালু এবং পৌরবাসীর জন্য নিয়মিত সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়াও পৌরসভার চলমান বিভিন্ন উন্নয়নকাজ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। বিশেষ করে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে পৌরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। পাশাপাশি কিছু উন্নয়নকাজে নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কাজের গুণগত মান যাচাই ও যথাযথ তদারকির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পানি শোধনাগার চালু করে পৌরবাসীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।পৌরবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে নির্মিত শোধনাগারটি দ্রæত চালু করার পাশাপাশি পৌরসভার চলমান উন্নয়নকাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।