হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
অবশেষে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার সিংগীজানী গ্রামের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তিস্তার তীব্র ভাঙনে বিদ্যালয়টির অবশিষ্ট অংশটুকুও মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে চলে যায়। এতে বিদ্যালয়টির কোনো অস্তিত্ব আর অবশিষ্ট নেই।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট তিস্তার ভাঙনে বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা টিনশেড ভবনের একটির পুরো অংশ এবং অপরটির অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অবশিষ্ট অংশ রক্ষার চেষ্টা করা হলেও বৃহস্পতিবার তীব্র ভাঙনে সেটিও নদীতে চলে যায়।
বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না করা হলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
স্থানীয় অভিভাবক আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষায় পানি সম্পদ মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছিল। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবগত করা হলেও শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এখন এলাকার শিক্ষার্থীরা কোথায় গিয়ে পড়াশোনা করবে, তা নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আপাতত শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। দ্রুত বিকল্পভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা না হলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও জানান, গত এক সপ্তাহের তিস্তার ভাঙনে বিদ্যালয়সহ প্রায় দেড়শত বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান মণ্ডল সাদা বলেন, ১৯৯২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে। সামান্য কিছু আসবাবপত্র রক্ষা করা গেলেও অধিকাংশ মালামাল নদীগর্ভে চলে গেছে। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ বা বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান কার্যক্রম চালু করা না গেলে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তীব্র ভাঙন শুরু হওয়ায় বিদ্যালয়টির ভবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে যায়। তবে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের কিছু মালামাল উদ্ধার করে পরিষদে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভাঙনের তীব্রতার মুখে এই মুহূর্তে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জিও ব্যাগ ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা করা হবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
