খালেদ আহমেদ :
এবি ট্রাস্টের উদ্যোগে ৪০ বেকার মানুষের মাঝে কর্মসংস্থানমূলক যানবাহন বিতরণ করা হয়েছে।
এবি ট্রাস্টের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাছাই করা ৪০ জন দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ৪০টি কর্মসংস্থানমূলক যানবাহন বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জনকে সিএনজি অটোরিকশা এবং ২০ জনকে মোটরচালিত ট্রাইসাইকেল প্রদান করা হয়।
শুক্রবার দুপুর ১২টায় পাবনা বিসিক শিল্পনগরীর ময়েজ উদ্দিন স্টিল কোম্পানি প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে যানবাহন বিতরণ করেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এবি ট্রাস্টের সঙ্গে কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের দাতব্য সংস্থার অংশীদারিত্ব রয়েছে। এসব বিদেশি অংশীদার বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ নানা জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাবনায় ১৩৬টি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত থাকায় তিনি যেকোনো আর্থিক কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন। এ কারণে বিদেশি সহায়তা গ্রহণ ও ব্যয়ের হিসাব-নিকাশে তিনি নিজেকে সরাসরি সম্পৃক্ত না রেখে কেবল প্রয়োজনীয় কাজের দিকনির্দেশনা দেন, যাতে কোনো অনিয়ম বা বিতর্কের সুযোগ না থাকে।
শিমুল বিশ্বাস আরও বলেন, ঢাকা ও পাবনায় মোট ১৪ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের কাজ হলো সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও কর্মহীন মানুষদের খুঁজে বের করা। তারা নিজেরাও দরিদ্র হলেও ট্রাস্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাদের কাউকেই সুবিধাভোগীর তালিকায় রাখা হয়নি। একইভাবে নিজের সন্তান, স্ত্রী, মা, ভাই, ভাতিজাসহ কোনো নিকটাত্মীয়কেও এ সহায়তার আওতায় আনা হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমানে ৩০০ জনের চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৪০টি যানবাহন বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও মানুষের কাছে এ ধরনের সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। যারা যানবাহন পেয়েছেন, তারা এগুলো বিক্রি করতে পারবেন না; বরং এগুলো ব্যবহার করে নিজের পরিবারের অভাব দূর করবেন এবং সমাজের অন্য অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।
তিনি আরও বলেন, “যে কাজে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা চুরি থাকবে না, আল্লাহর রহমতও সেই কাজেই বরকত দান করবে।”
সমাপনী বক্তব্য দেন পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-কাতার চ্যারিটির পার্টনারশিপ কো-অর্ডিনেটর তানভীর এলাহী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরিফুল ইসলাম, পাবনা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট মির্জা আজিজুর রহমান, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু এবং এনজিও সংস্থা গ্যাস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।
উপকারভোগীদের পক্ষে বক্তব্যে কয়েকজন বলেন, “আমাদের গ্রামে আয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। কারও কাছে হাত পাততেও লজ্জা লাগে। এমপি মহোদয় আমাদের একটি করে গাড়ি দিয়েছেন। এই গাড়ি চালিয়ে উপার্জন করে পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে পারব।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বাবু, পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর এনামুল হক এনাম, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আবুল আহসান খান রেয়ন, এবি ট্রাস্টের সদস্য ও প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান রয়েল বিশ্বাস, পৌর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম নিউটন, পাবনা জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ খন্দকার আশরাফ হোসেন রাজন, কাতার চ্যারিটির প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট সাকিবুল ইসলাম, উপকারভোগী, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাতার চ্যারিটির জসিম উদ্দিন। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন পাবনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক ফিরোজ খান।
