বৃষ্টিতে খিচুড়ি খাওয়ার উপকারিতা

ঝুম বৃষ্টিতে এক প্লেট ধোঁয়া উঠা খিচুড়ি বেশ উপভোগ্য এক খাবার। তবে বর্ষায় অনেক সময় খিচুড়ি খেতে হয় অনেকটা বাধ্য হয়ে। বৃষ্টিতে বাজার-হাট ঠিকমতো বসে না। ফলে অন্য সময়ের মতো প্রচুর শাকসবজি ও অন্যান্য উপকরণ কম পাওয়া যায়। ফলে বর্ষার খিচুড়ি সব সময় শুধু আয়েশ করে খাওয়ার বিষয় নয়। আয়েশ করেই হোক বা বাধ্য হয়েই খাওয়া হোক, খিচুড়ি পুষ্টিকর খাবার। বাড়িতে সবজি থাকলে ভালো, নয়তো ডাল ও চাল দিয়েও এটি রান্না করে নেওয়া যায়। সুযোগ থাকলে যোগ করা যায় মাংস। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং ঋতু পরিবর্তনজনিত অসুস্থতা থেকে বাঁচায়। তা ছাড়া এটি সহজে হজমও হয়।

খিচুড়ির পুষ্টিগুণ : পুষ্টিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, খিচুড়ি থেকে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত শর্করা ও শক্তি। ডাল জোগায় প্রোটিন ও আঁশ। ঘি বা তেল শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে এবং পুষ্টি শোষণে সহায়ক। হলুদে থাকা কারকিউমিন ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে এবং আদা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীর গরম রাখে। খিচুড়িতে সবজি যোগ করলে আঁশের মাত্রা বাড়ে।

গোলমরিচ ও জিরার মতো মসলা বিপাকপ্রক্রিয়া উন্নত করে। চাল ও ডালের মিশ্রণে তৈরি খিচুড়ি লাইসিন নামক অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের চমৎকার উৎস। শুধু ডাল বা শুধু ভাত খেলে এটি পাওয়া যায় না। লাইসিন শরীরে তৈরি হয় না, তাই খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, ক্যালসিয়াম শোষণ ও কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং হারপিস বা কোল্ড সোর ভাইরাসের প্রকোপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। খিচুড়িতে পাওয়া লাইসিনের গুণগত মান অত্যন্ত চমৎকার। এটি উচ্চমানের ‘সম্পূর্ণ প্রোটিন’ হিসেবে কাজ করে। খিচুড়ি ছাড়াও এটি পাওয়া যায় সামুদ্রিক মাছ, ডিম, সয়া প্রোটিন, স্পিরুলিনা, পনির, লাল মাংস ও মুরগির মাংসে।

কিন্তু বর্ষাকালে পরিস্থিতিগত কারণে সেসব উপকরণ সহজলভ্য না-ও হতে পারে। সে সময় খিচুড়ি হয়ে উঠতে পারে অনন্য খাবার।

আমাদের দেশে হাজারো ধরনের খিচুড়ির রেসিপি পাওয়া যায়। সেসব থেকে বেছে নিয়ে রান্না করতে পারেন। এখানে একটি রেসিপি রইল আপনাদের জন্য।

পাঁচমিশালি ডালের খিচুড়ি
উপকরণ : পোলাওয়ের চাল ৫০০ গ্রাম, মসুর ডাল, ভাজা মুগ ডাল, খেসারি ডাল, অ্যাংকর ও বুটের ডাল ৫০ গ্রাম করে, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, কাঁচা মরিচ ৬ থেকে ৭টি, সরিষার তেল আধা কাপ, আদা ও রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ করে, লবণ স্বাদমতো, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতা ২ থেকে ৩টি এবং পানি পরিমাণমতো।

প্রণালি : মসুর ডাল বাদে সব ডাল ধুয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সেদ্ধ করে রাখুন। এবার মসুর ডাল ও পোলাওয়ের চাল একসঙ্গে ধুয়ে হাঁড়িতে নিন। সেই হাঁড়িতে ডাল সেদ্ধ, পেঁয়াজকুচি, আদা-রসুনবাটা, এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতা, লবণ ও সরিষার তেল দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। তারপর চুলায় ঢাকনাসহ রান্না করুন। চাল ফুটে এলে চুলার তাপ কমিয়ে নেড়েচেড়ে কাঁচা মরিচের ফালি, ঘি দিয়ে দমে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রান্না করলেই তৈরি হয়ে যাবে পাঁচমিশালি ডালের খিচুড়ি। পরিবেশন করুন ইলিশ ও বেগুন ভাজা আর সালাদ দিয়ে।