তথ্য গোপন করে প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্বে রাণীশংকৈলের শিক্ষক ।

জসীমউদ্দিন ইতি (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:

নিজের সন্তান এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও সেই তথ্য সম্পূর্ণ গোপন করে চলতি পরীক্ষায় বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রধান পরীক্ষকের (Head Examiner) দায়িত্ব পালন করার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বোর্ডের স্পষ্ট নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে তার এই দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোশাররফ হোসেন। তিনি রাণীশংকৈল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত এবং বর্তমানে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অনুসন্ধানে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক মোশাররফ হোসেনের আপন ছেলে এবার পার্বতীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষকের সন্তান বা নিকটাত্মীয় পরীক্ষায় অংশ নিলে তিনি পরীক্ষা সংক্রান্ত খাতা মূল্যায়ন বা প্রধান পরীক্ষকসহ কোনো ধরনের গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। কিন্তু মোশাররফ হোসেন বোর্ডের এই নিয়ম অমান্য করে এবং তথ্য গোপন করে প্রধান পরীক্ষকের পদ লুফে নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে প্রধান পরীক্ষকের নিজের সন্তানই পরীক্ষার্থী, সেখানে খাতা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার এবং অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থেকে যায়। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে এক ধরণের প্রতারণা।”

এই বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোশাররফ হোসেন নিজের সন্তান পরীক্ষার্থী হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমি বিগত ৮ বছর ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি যথানিয়মে আবেদন করলে শিক্ষা বোর্ড আমাকে দায়িত্ব দেয়।” তবে নিয়মের লঙ্ঘনের কথা অকপটে স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী এই দায়িত্বে থাকা আমার ঠিক হয়নি। তবে অনেকেই তো নিয়ম মেনে থাকে না।”

এ বিষয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, “পরীক্ষক নিয়োগের সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয় যে—তাদের কোনো সন্তান বা নিকটাত্মীয় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে কি না। তথ্য গোপনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত এই বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ খাদিজা বেগম জানান, শিক্ষা বোর্ড থেকে বিষয়টি তাকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানতে পেরেছেন যে, বোর্ড কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষক মোশাররফ হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পাঠিয়েছে। বোর্ডের পরবর্তী নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।