আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেট ও সুনামগঞ্জ মহাসড়কের জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গত সোমবার বিকেল দুইটার দিকে বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই সিএনজি যানটি বাসের নিচে চাপা পড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়, ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুনামগঞ্জ থেকে যাত্রীবাহী সিএনজি সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা রিফাত পরিবহনের একটি বাস জালালপুরে পৌঁছালে দুটি গাড়ির মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়দের দাবি, বাসটির গতি ছিল অত্যন্ত বেশি। সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে সিএনজি গাড়িটি পুরোপুরি বাসের নিচে ঢুকে পড়ে। পথচারীরা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে এসে গুরুতর আহতদের সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ওই সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে ঢাকা মেট্রো–ব ১১–৭৭৬১ নম্বরের হানিফ পরিবহন –এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়।
এতে সিএনজি চালক মো. ইউসুফ আলী (৫০), গ্রাম—তাহির পুর, সুনামগঞ্জ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আরও এক অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।
এব্যাপারে জয়কলস হাইওয়ে থানার ওসি মোতালেব জানান, দুর্ঘটনার পর বাস চালক পালিয়ে যায়। পুলিশ বাস ও সিএনজি জব্দ করেছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে বেপরোয়া বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট নজরদারি নেই। জালালপুর অংশটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত হলেও নিয়মিত তদারকি না থাকায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সচেতন মহল বলছে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা না গেলে এমন দুর্ঘটনা থামানো কঠিন হবে।
