ওসমান গনি বেড়া (পাবনা)
পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলে মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এক সময় ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আর দারিদ্র্যের কারণে অসুস্থ হলেও সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিতে পারতেন না চরাঞ্চলের মানুষ। সেই চিত্র এখন বদলেছে। ফ্রেন্ডশিপ মোবাইল হাসপাতাল বাংলাদেশ-৩ এর মাধ্যমে এখন চরের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা।
নতুন পেচাকোলো গ্রামের আসমা খাতুন বলেন,পেটের ব্যথার সমস্যার কারণে ওই ভাসমান হাসপাতালে গিয়েছিলাম, চিকিৎসা সেবা নিয়ে এখন আমি অনেক ভালো। গরীব মানুষের জন্য ভাসমান হাসপাতালটি খুবই যুগোপযোগী।একই গ্রামের চিকিৎসা সেবা নিতে যাওয়া ছারা খাতুন বলেন, চোখের সমস্যার জন্য গিয়েছিলাম, চোখ পরীক্ষা করে বিনামূল্যে ড্রপ দিয়েছে। কয়েকদিন ব্যবহার করে সেরে গেছে ভাসমান হাসপাতালে শুধু চিকিৎসা সেবাই দেন না বিনামূল্যে অনেক ওষুধও দেওয়া হচ্ছে।চর পেচাকোলা গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান , চরাঞ্চলের মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা ছিল দুঃস্বপ্নের মত সেটার অবসান ঘটেছে ভাসমান হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায়। শুধু চরাঞ্চলই নয় আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক মানুষ এই ভাসমান হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে অনেক খুশি। বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ কর্মসূচির আওতায় এই ভাসমান হাসপাতালটি ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ থেকে যাত্রা শুরু করে। পাবনার বেড়া এবং কুষ্টিয়ার কুমারখালী চরাঞ্চলে তিন মাস অন্তর ঘুরে ঘুরে এটি সেবা দেয়। মোট ২২ জনের একটি দল ওই ভাসমান হাসপাতালে সেবামূলক কাজে নিয়োজিত আছেন।চরাঞ্চলের এই হাসপাতালে সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে জটিল অনেক সমস্যার প্রাথমিক সমাধান মিলছে জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও পেটের সমস্যার চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রসব-পূর্ব ও পরবর্তী পরামর্শ এবং শিশুদের পুষ্টি ও টিকাদান ,
দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, ছোটখাটো অস্ত্রোপচার, এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি স্বল্প খরচে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা সংক্রান্ত সেবা মেলে এখানে।
স্থানীয়রা জানান , চরাঞ্চলের জন্য ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি না থাকলে অনেকেই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হতো।তাই ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল চরাঞ্চলেের মানুষের এখন একমাত্র ভরসা।ভাসমান হাসপাতালের এমন মহৎ সেবায় স্থানীয়রা অত্যন্ত খুশি। শুধু তাই নয় তাঁদের দাবি বছরের নির্দিষ্ট কয়েক মাস নয় বরং সারাবছরই যেন এই ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালটি এ এলাকায় চালু থাকে। এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য প:প: কর্মকর্তা ডা.তাহমিনা সুলতানা নীলা এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি নিজে এবং জেলা সিভিল সার্জন মহোদয়কে সঙ্গে নিয়ে চর পেচাকোলা গ্রাম সংলগ্ন যমুনা নদীতে ভাসমান হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছি, এখানে সেবার মান খুবই ভালো। চরাঞ্চলের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত শতশত মানুষ ছোটখাটো রোগের খুব ভালো চিকিৎসা পাচ্ছে এখানে।শুধু চরাঞ্চল নয় আশপাশের দূর-দূরান্ত থেকেও প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড়শ মানুষ চিকিৎসার সেবা নিচ্ছে ওই ভাসমান হাসপাতাল থেকে।তিনি আরও বলেন, বিদেশি সংস্থার অর্থায়নে ওই হাসপাতালে একজন এমবিবিএস , একজন মেডিকেল অফিসার , দুইজন প্যারামেডিকেল, চারজন টেকনিশিয়ান , একজন ফার্মাসিস্ট রয়েছেন বলে তিনি প্রতিবেদককে জানান।
