ওসমান গনি বেড়া (পাবনা)
পাবনার বেড়ায় গলা কেটে সাত সন্তানের জননী রাহিমা কবিরাজ নামে ৭৭ বয়সী এক বৃদ্ধাকে গলাকেটে হত্যা করে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার হাটুরিয়া – নাকালিয়া ইউনিয়নের নতুন পেচাকোলা গ্রামে। নিহত রাহিমা কবিরাজ উক্ত গ্রামের মৃত সাত্তার মোল্লার স্ত্রী। স্থানীয় লোকজন জানান, নিহত রাহিমা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ধাত্রির কাজ এবং কবিরাজি করায় সবার কাছে বেশ সুপরিচিত ছিলেন। প্রতিদিনই নিজ বাড়িতে একা একা থাকতেন , ঘটনার দিন সন্ধ্যে পৌনে ছয়টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে কে বা কাহারা তাঁর বাড়ির শোবার ঘরে ঢুকে কানে এবং গলায় সোনার গহনা ছিনিয়ে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের ধারণা আঘাতের একপর্যায়ে বৃদ্ধা মারাত্মক আহত অবস্থায় পাশের বাড়ির মৃত ফজর আলির বাড়ির উঠানে এসে পড়ে যায়। এ সময় গোঙানির শব্দ শুনে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় রাহিমাকে দেখে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে ওই অবস্থায় তাকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে বগুড়া জিয়া মেডিকেলে প্রেরণ করেন, পথিমধ্যে শাহজাদপুর নামক স্থানে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবক এম এ সালাম মোল্লা এ প্রতিবেদককে জানান , হাটুরিয়া – নাকালিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত সাত্তার মোল্লার স্ত্রী রাহিমা কবিরাজ ও দাইমাকে ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে কে বা কাহারা তাঁর শোবার ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে কানের দুল এবং গলায় থাকা সোনার ধানতাবিজ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এলাকায় না থাকার কারণে এসআই মমতাজ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন , কে বা কাহারা ওই বৃদ্ধার নিজ ঘরে ঢুকে বৃদ্ধার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গলায় ও কানে থাকা সোনার গহনা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।এলাকাবাসীর সহায়তায় তাৎক্ষণিক তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলমান। লাশ ময়না তদন্তের জন্য আজ সোমবার সকালে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন
