বেড়ায় দর্শনার্থী এবং পথচারীদের নজরকাড়ছে ভ্রাম্যমাণ “কুঁড়েঘর পাঠাগার”

ওসমান গনি বেড়া (পাবনা)
যমুনা ও হুড়া সাগর নদী বেষ্টিত এলাকার বেড়া পোর্টের রাস্তা ধরে হাঁটলেই একটি ব্যানারে চোখ আটকে যায়। ‘কুঁড়েঘর পাঠাগার’ লেখা ব্যানারের পাশেই একটি বুক শেলফ। তাতে সাজানো রয়েছে প্রায় ৩শ বই পথচারী কিংবা পোর্ট নদী বন্দরে হাঁটতে আসা মানুষই এখানকার পাঠক। অনেকের অবাক এবং নজরকাড়া দৃষ্টি ছোট্ট এই পাঠাগারের দিকে।
পাবনার বেড়া পোর্ট (নৌ বন্দর) এলাকায় ‘শিক্ষার্থী সহযোগিতা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মেহেরাব হোসেন জিমের উদ্যোগে পোর্টে ঘুরতে আসা মানুষের জন্য গড়ে উঠেছে ‘কুঁড়েঘর পাঠাগার’ নামে এক ব্যতিক্রমী পাঠাগার। শিক্ষার্থী সহযোগিতা সংগঠনের এই কুঁড়েঘর পাঠাগারটি প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়। পাঠাগারের বই সরবরাহ করছেন কলি প্রকাশনীর মহিউদ্দিন কলি। এই সংগঠন বিভিন্ন সময় নানা সামাজিক কাজ করে থাকে। এর আগেও সংগঠনটি ভ্যান পাঠাগার তৈরি করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সংগঠনের সদস্যরা জানান, বর্তমানে ভ্যান পাঠাগারটি হাটুরিয়া নাকালিয়া এলাকার স্কুলগুলোতে পর্যায়ক্রমে ঘুরে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।পোর্টে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ব্যাংকার মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থী সহযোগিতা সংগঠনকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ, আমরা আসা-যাওয়ার পথে কুঁড়েঘর পাঠাগারের বই পড়ার সুযোগ পাব , তাদের এ উদ্যোগ সত্যিই অনেক প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের এমন কাজে সহযোগিতা করার জন্য আমাদের প্রত্যেকের এগিয়ে আসা উচিত। বেড়া বিপিন বিহারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়ামিন হোসেন বলেন, এই পাঠাগার আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য নয় বই প্রেমীদের জন্য অনেক ভালো হয়েছে। কারণ, আমরা অনেকেই মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়েছি। শিক্ষার্থী সহযোগিতা সংগঠনের উদ্যোগ আমাদের খুব ভালো লেগেছে। ছুটির দিনে আমরা অবশ্যই এই পাঠাগারে বই পড়ব।বেড়া হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রেজোয়ান রাজ বলেন, আমরা প্রায় শুক্রবার পোর্টে ঘুরতে আসি পাঠাগার হওয়ায় বেড়ানোর পাশাপাশি বইও পড়তে পারব।শিক্ষার্থী সহযোগিতা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মেহেরাব হোসেন জিম বলেন, আমরা সব সময়ই মানুষের জন্য ব্যতিক্রম কিছু করতে চাই , বেড়া পোর্ট এই এলাকার একটি দর্শনীয় স্থান। বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতায় এই ‘কুঁড়েঘর পাঠাগার’ করা হয়েছে। আশা করি, পাঠাগারটি আশপাশের মানুষ দেখেশুনে রাখবে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কুঁড়েঘর পাঠাগার স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হবে।বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোরশেদুল ইসলাম , চলতি মাসের ১৯ নভেম্বর পাঠাগারটি শিক্ষার্থীর সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে উদ্বোধন করা হয়। বরাবরের মতো এবারও বেড়া পোর্ট এলাকায় ব্যতিক্রমী একটি ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার স্থাপন করেছে এখানে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার স্থাপন করায় বিকেলে এবং ছুটির দিনে ( পোর্ট এলাকা) নদীর পাড়ে নির্মল পরিবেশে মানুষ বই পড়ার সুযোগ পাবে। উপজেলা প্রশাসন সাধ্যমতো তাঁদের পাশে সব সময় আছে আমরা লক্ষ্য করেছি,তারা সব উদ্ভাবনী কাজ করেছে। শিক্ষার্থী সহযোগিতা সংগঠনটি সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে সুন্দর সুন্দর উদ্যোগ ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।