কাঁচা মাছের অভাবে চলনবিলের অধিকাংশ শুটকি চাতাল বন্ধ

ইকবাল কবীর রনজু, চাটমোহর পাবনা ::
প্রয়োজনীয় কাঁচা মাছের অভাবে পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জের চলনবিল অধ্যুষিত এলাকার অধিকাংশ শুটকি মাছের চাতাল এবার বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যেই এ এলাকার নদ-নদী, খাল বিলের পানি কমে গেছে। কিছু খাল বিল ইতিমধ্যে প্রায় শুকিয়ে গেছে। পানি প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসলেও উন্মুক্ত খাল বিলে পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত দেশি মাছ।
ফলে অনেক শুটকি ব্যবসায়ী এবার চাতাল স্থাপন করেননি। কিছু শুটকী ব্যবসায়ী চাতাল স্থাপন করে খুব সামান্য পরিমানে পুটি মাছ শুটকি করছেন। আবার কেউ কেউ চাতাল স্থাপন করলেও মাছের অভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মাছ শুটকি করার কার্যক্রম।
আগে এ সময়ে জেলেদের জালে প্রচুর মাছ ধরা পরতো। মৌসুমী শুটকি ব্যবসায়ীরা সকাল থেকে রাত অবধি মাছ কেনা, ধোয়া, চাতালে শুকানো ও বাছাই করে পৃথক করার কাজ করতেন। চলনবিলের মাঝ দিয়ে নির্মিত বনপাড়া-হাটিকুমরুল সড়ক পথে চলাচলের সময় মহিষলুটি এলাকা অতিক্রমকালে যে কারো নাকে ভেসে আসতো শুটকি মাছের গন্ধ। এবার মাছ না থাকায় পাল্টে গেছে সে চিত্র। কর্ম হারিয়েছেন চলনবিল এলাকার শত শত নারী পুরুষ শুটকি শ্রমিক। সরেজমিন উক্ত এলাকা ঘুরে শুটকি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে মাছের দৈনদশার এবারের চিত্র।
জানা গেছে, আগে চলনবিল এলাকার খাল বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। কার্তিক অগ্রহায়ন মাসে জেলেরা বিভিন্ন ধরণের মাছ ধরার উপকরণের সাহায্যে মাছ ধরতেন। বোয়াইলমারী, সোনাহার পাড়া, দিলপাশার, খাগড়বাড়িয়া, মহিষলুটি, গুরুদাসপুর, সিংড়া, হালতী, আত্রাই ও উল্লাপাড়ার লাহিরী মোহনপুর এলাকায় মাছ শুকানোর কাজ করতেন মৌসুমী শুটকি ব্যবসায়ীরা। বিক্রির জন্য পাঠাতেন উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুর, নিলফামারীসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে। এখন এ সব এলাকাতেই মাছের পরিমান কমে গেছে আশংকাজনক ভাবে।
সিরাগঞ্জের সলঙ্গার দেলোয়ার হোসেন নামক একজন শুটকি ব্যবসায়ী জানান, চলনবিল এলাকায় এবার মাছ নেই বললেই চলে। চলনবিলে যে মা মাছ এসেছিল মওশুমের শুরুতেই চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে সেই মা মাছ নিধন করা হয়। এবার অগ্রহায়ন মাসেই মাছ সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। শুটকি মওশুমের শুরুতে মেঘ বৃষ্টির কারণে তাদের লোকসান শুরু হয়। যে যৎসামান্য মাছ শুকিয়েছেন মোকামে দাম না থাকায় লোকসানের আশংকায় তা বিক্রি করতে পারছেন না। শুটকি মাছের দাম যদি বাড়ে এ আশায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
মহিষলুটি এলাকায় কথা হয় রফিকুল ইসলাম নামক একজন শুটকি ব্যবসায়ীর সাথে। প্রায় ১৮ বছর যাবত মাছ শুকানোর কাজ করেন তিনি। এবার ভর মওশুমে গত পনেরো দিন যাবত শুকানোর জন্য কোন মাছ পাননি তিনি। তিনি আরো জানান, যে যৎসামান্য কাঁচা মাছ বাজারে আসে তার দাম অনেক বেশি। আগামি দিনে মানুষ চলনবিল এলাকার শুটকি মাছের স্বাদ ভুলে যাবে এ আাশংকাও করেন তিনি। বিলের মধ্যে অপরিকল্পিত ভাবে শত শত পুকুর খনন ও চায়না দুয়ারী জালের প্রভাবে চলনবিল এলাকা মাছ শূণ্য হয়ে পরছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ব্যাপারে চাটমোহরে কর্মরত সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে চলনবিল এলাকায় বেশি মাছ ধরা পরে। চায়নাদুয়ারী জালের প্রভাবে কমছে মাছ। এবার জেলেরা অবৈধ স্বোতী জাল স্থাপন করতে না পারায় নদ নদী হয়ে মাছ ভাটিতে চলে যাওয়ায় কাাঁচা মাছের সংকট চলছে। যে যৎসামান্য মাছ ধরা পরছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় সে মাছগুলোও বাইরে চলে যাচ্ছে। কিছু মওসুমী শুটকি ব্যবসায়ী খুব সামান্য মাছই শুকাতে পেরেছেন। অনেকে মাছ শুকাতেই পারেননি।